চারণকবি বিজয় সরকারের আজ জন্মবাষির্কী

নড়াইল অফিস ॥ একুশে পদকপ্রাপ্ত চারণকবি বিজয় সরকারের ১১৮ তম জন্মবার্ষিকী আজ ২০ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার। এ উপলে তার জন্মস্থান নড়াইল জেলার ডুমদীসহ আরও কয়েকটি জায়গায় বিজয় ভক্তদের মিলন মেলা, আলোচনা সভা ও কবিগানের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া গ্রামবাসীর সহযোগিতা ও বিজয়ভক্ত অনুরাগীদের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে কবির প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও উৎসবের।
অসাম্প্রদায়িক চেতনার সুরস্রষ্টা, গীতিকার ও গায়ক, চারণকবি বিজয় সরকার ১৯০৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি নড়াইল সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের ডুমদি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবার নাম নবকৃষ্ণ অধিকারী। মা হিমালয়া দেবী। তার শৈশবকাল এবং জীবনের বেশিরভাগ সময় কেটেছে প্রিয় জন্মভূমি ডুমদিসহ নড়াইলের বিভিন্ন এলাকায়। ছেলেবেলা থেকেই তিনি (বিজয় সরকার) কবিতা, গান রচনা ও সুরের মধ্যে ডুবে থাকতেন। তাই প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়ায় তিনি আর বেশিদূর এগুতে পারেননি। মাত্র নবম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত অবস্থায় তার লেখাপড়ার সমাপ্তি ঘটে। মতান্তরে তিনি ম্যাট্রিক পাশ। এরপর তিনি গানের দল নিয়ে বেরিয়ে পড়েন বাংলাদেশ-ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে। তিনি একাধারে গানের রচয়িতা ও সুরকার। পোষা পাখি উড়ে যাবে সজনী/একদিন ভাবি নাই মনে…। এই পৃথিবী যেমন আছে, তেমনি ঠিক রবে/সুন্দর এই পৃথিবী ছেড়ে একদিন চলে যেতে হবে…। তুমি জানো নারে প্রিয়/ তুমি মোর জীবনের সাধনা’…এ ধরনের অসংখ্য জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা ছিলেন বিজয় সরকার। তিনি প্রায় এক হাজার ৮শ গান রচনা করেছেন। অনেক কবিতাও রচনা করেন তিনি। কবিগানের আসরেও তিনি দুর্দান্ত ছিলেন। মাতিয়ে তুলতেন দর্শক-শ্রোতাদের। কোন কোন মঞ্চে তৎণাৎ নিজের রচিত আধ্যাতিœক গান পরিবেশন করে তিনি শ্রোতাদের মুগ্ধ করতেন। কবি গানে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি চারণকবি ও সরকার উপাধিতে ভূষিত হন। ১৯৮৫ সালের ৪ ডিসেম্বর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কেউটিয়ায় তার মৃত্যুর হয়। সেখানেই তাকে সমাহিত করা হয়। শিল্পকলায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরুপ ২০১৩ সালে একুশে পদক (মরণোত্তর) পান উপমহাদেশের প্রখ্যাত এই চারণ কবি।

ভাগ