রাজগঞ্জের ঝাঁপা বাঁওড় পানি শুকিয়ে মরা খালে পরিণত, ধান চাষ ব্যাহতের আশঙ্কা

0

ওসমান গণি, রাজগঞ্জ (যশোর) ॥ যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জের ঝাঁপা বাঁওড় বর্তমানে পানি শুকিয়ে মরাখালে পরিণত হয়েছে। এদিকে চলতি বোরো চাষে ধান েেত পানি উঠানোর জন্য খ.খ.চ পাওয়ার পাম্প বাঁওড়ে বসানো হয়েছে। কিন্তু পাম্পগুলো পানি পাচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত পানির অভাবে বোরো ধান চাষ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। অন্যদিকে বাঁওড়ের বুকে বোরো ধান ও বিভিন্ন তরিতরকারি চাষ করছেন তীরে বসবাসকারি কৃষকরা।
সূত্রে জানা গেছে, ঝাঁপা বাঁওড়টির দৈর্ঘ প্রায় ৭ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ১২ শ ফুট। বর্ষা মৌসুমে বাঁওড়ে কানায় কানায় পানি ভর্তি থাকে। কিন্তু এ মৌসুমে পানি শুকিয়ে গিয়ে বাঁওড়ের মাঝখানে ৬ শ ফুটের মত খালের মধ্যে পানি আছে। বাঁওড় থেকে খ.খ.চ মেশিন দিয়ে পানি উঠিয়ে ৩টি ইউনিয়নের মাঠে বোরো ধান চাষ করছেন চাষিরা। ঝাঁপা, চালুয়হাটি ও মশ্বিমনগর ইউনিয়নের চাষিরা বাঁওড়ের দু পাশে ৩০টি পানি উঠানো মেশিন বসিয়ে বোরো চাষ করছেন বলে মনিরামপুর কৃষি অফিস জানিয়েছে। কৃষি অফিস জানায়, এ মৌসুমে ২৮ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষের ল্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তবে চাষ হয়েছে ২৭২.৯ শ হেক্টর জমিতে। হানুয়ার মানিকগঞ্জ গ্রামের খ.খ.চ মেশিন মালিক সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রসুল চন্টা ও গোলাম খা জানান, বোরো ধানে পানি দেয়া এখন কষ্টকর। বাঁওড়ের মাঝখান পর্যন্ত খনন করেও পানি পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিদিন খনন করতে হচ্ছে আবার তা পরের দিন শুকিয়ে যাচ্ছে। মনোহরপুর গ্রামের মেশিন মালিক টুটুল ও টুকু জানান, মেশিনে পানি পাওয়ার জন্য ২/৩ দিন পরপর শ্রমিক দিয়ে বাঁওড়ের মাঝখান পর্যন্ত খনন করে পানি উঠিয়ে ধান েেত দিচ্ছি। রামপুর গ্রামের বাসার বাঁওড়ের মাঝখানে ড্রেন কেটে পানি উঠাচ্ছেন। কোমলপুর গ্রামের কার্ত্তিক পানি উঠাতে না পেরে বাঁওড়ের কাছে মেশিন বোরিং করে পানি উঠিয়ে ধানেেত দিচ্ছেন। ঝাঁপা বাঁওড়ে পানি শুকিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকাবাসী উদ্বিগ্ন। তবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বাঁওড়টি খনন করলে আগের মতো কানায় কানায় পানি ভরে যবে বলে তারা জানিয়েছেন। দায়িত্বে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ বিষয়টি দেখার জন্য দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।