শালিখায় খাদ্যগুদামে ধান ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ

আড়পাড়া (মাগুরা) সংবাদদাতা ॥ মাগুরার শালিখায় ধান ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এখানে উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমে ধান ক্রয়ে কৃষক নির্বাচিত হলেও খাদ্যগুদামে ধান দিচ্ছে অসাধু সিন্ডিকেট। অনুসন্ধানে জানা গেছে, কৃষি অফিস থেকে কৃষক তালিকা প্রকাশ হওয়ার পরপরই সিন্ডিকেটের সদস্যরা কৃষকদেরকে নানা প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কৃষি ও আইডি কার্ড হাতিয়ে নিয়েছে। ফলে সরকার যে উদ্দেশ্যে কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা ব্যর্থ হতে চলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, শালিখা উপজেলায় যেসব কৃষক লটারিতে নির্বাচিত হয়েছেন তাদের অধিকাংশের ধান নেই। ফলে তারা কৃষি কার্ড অসাধু সিন্ডিকেটের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। এসব কৃষক কার্ড বিক্রি করার পর গুদামে এসে ওসিএলএসডির কাছে আইডি কার্ডের ফটোকপি, কৃষক নির্বাচিত তালিকার ফটোকপি, ব্যাংক একাউন্ট নম্বর ও মোবাইল ফোনে ছবি তুলে দিয়েই তাদের ধান গুদামে দেওয়ার কার্যক্রম সিন্ডিকেটের হাতে ন্যস্ত করে। অথচ যে সব কৃষকের ঘরে পর্যাপ্ত পরিমানে ধান রয়েছে তাদের নাম লটারিতে বাধেনি৷
সরকার কৃষকদের উন্নয়নে গত বছরের ১ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রথম পর্যায়ে ১৫,০৩৮ মেট্রিক টন ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করে৷ প্রতি মণ ধানের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১০৪০ টাকা। কিন্তু নানা পদক্ষেপের পরও অসাধু সিন্ডিকেট ও কতিপয় ধুরন্ধর কর্মকর্তা-কর্মচারীর হাত থেকে রা করা যায়নি প্রকৃত ধানচাষিদের৷ জানা গেছে, শালিখার আড়পাড়া খাদ্যগুদামের ওসিএলএসডি প্রতি টন ধানে নির্দিষ্ট একটি কমিশন, প্রতি টন ধানে শ্রমিক খরচ ৪শ থেকে ৫শ টাকা এবং প্রতি মণ ধানে ৪০ কেজির স্থলে ৪২ কেজি নিয়েছেন। সূত্র জানায়, সরকার কৃষকদের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে ধান ক্রয় ও তাদের জীবনমান উন্নত করতে সারাদেশের ন্যায় মাগুরার শালিখা উপজেলাতেও প্রথম দফায় ১৫,০৩৮ মেট্রিক টন ধান ক্রয়ের জন্য উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হয়। এরপর উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমে কৃষকরা নির্বাচিত হন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ওসিএলএসডি মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমে যেসব কৃষকের তালিকা পেয়েছি তাদের কার্ডসহ ছবি তুলে নিয়ে ধান নিয়েছি৷ এসব কৃষক বাইরে গিয়ে যদি তাদের কার্ড সিন্ডিকেটের কাছে বিক্রি করেন তাহলে আমি কী করতে পারি।’ মণ প্রতি ৪০ কেজির জায়গায় ৪২ কেজি কেন নিচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অনেক সময় ধানে মর্চা থাকে না, ধান কম নিয়ে আসে। যে কারণে মণ প্রতি বেশি নেওয়া হচ্ছে।’ উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা সালমা চৌধুরী বলেন, ‘সিন্ডিকেটের হাতে ধানের কার্ড গেছে কিনা আমার জানা নেই৷ আর মণ প্রতি ৪২ কেজি ধান উর্ধ্বতন কর্তৃপরে নির্দেশে নেওয়া হচ্ছে৷ওসিএলএসডি ধানের টন প্রতি টাকা নিচ্ছেন কিনা আমার জানা নেই৷লটারিতে যে কৃষকদের নাম এসেছে তার তালিকা করেছে উপজেলা কৃষি অফিস। তাতে অন্য কৃষকদের নাম না বাধলে আমাদের কিছুই করার নেই৷তবে প্রতিদিনই ইউএনও স্যার গুদামে তদারকির জন্য দু’তিন বার যান। ফলে কীভাবে কৃষি কার্ড সিন্ডিকেটের হাতে যাবে।’ এ ব্যাপারে বক্তব্য নেয়ার জন্য উপজেলা কৃষি অফিসার মো. আলমগীর হোসেনের মোবাইল ফোনে কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি। অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

ভাগ