স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের মনিরামপুর উপজেলার হায়াতপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের এক নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তাকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ধর্ষিতা জানান, শুক্রবার রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে তিনি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর থেকে বের হয়ে রাস্তায় হাটাহাটি করছিলেন। এ সময় রাস্তার পাশে তিনি একটি মোটরসাইকেল দেখতে পান। মোটরসাইকেলের পাশে তখন কোন লোক ছিল না। ওই সময় বাড়িতে ফেরার পথে কোথা থেকে দু’জন লোক এসে তার গতিরোধ করে। এদের একজন হায়াতপুরের আব্দুস সাত্তার সরদারের পুত্র হাবিবুর রহমান। অপরজনকে তিনি চিনতে পারেননি। হাবিবুর রহমান তাকে ধরে প্রাণনাশের ভয় দেখায় এবং সেখান থেকে হায়াতপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে বাঁশ বাগানের ভেতর নিয়ে তাকে উপর্যুপরি ধর্ষণ করে। এ সময় চিৎকার করলেও কেউ ওই রাতে তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেনি। এ ঘটনার পর রাস্তার পাশে বসে ধর্ষিতা কাঁদছিলেন। তখন আক্কাস আলী নামে এক ভ্যানচালক এসে তাকে উদ্ধার করেন এবং গতকাল ভোরে চিকিৎসার জন্য ধর্ষিতাকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. হালিমাতুজ জোহরা মুক্ত গতকাল ধর্ষিতাকে চিকিৎসা দেন এবং ধর্ষণের ঘটনা পরীক্ষা করার জন্য আলামত সংগ্রহ করেছেন। এ সময় ডা. হালিমাতুজজোহরার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষা শেষে এখনো রিপোর্ট হাতে পাওয়া যায়নি। ধর্ষিতা জানান, তার মাতা ওই আশ্রয়ণ প্রকল্পে থাকেন। তিনি থাকেন ভারতের বেড়া নামক স্থানে স্বামীর কাছে। মাতা অসুস্থ থাকায় গত ৬ মাস মাতার কাছে তিনি বেড়াতে আসেন। এর ভেতর গত ৪ মাস আগে হাবিবুর রহমান তার কাছ থেকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা কর্জ নেয়। এ টাকা চাওয়া নিয়ে সালিশ হয়। মোট টাকার মধ্যে সালিশের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ধর্ষক হাবিবুর রহমান তাকে নগদ ২০ হাজার টাকা ফেরত দেয়। ১ লাখ ১০ হাজার টাকা ফেরত দেয়ার অঙ্গীকার করে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে দেয় হাবিবুর রহমান। বাকি ৪০ হাজার টাকা সালিশকারী মাতব্বরা কমিশন বাবদ নিয়ে নেয়।
ধর্ষিতা জানিয়েছেন, পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে হাবিবুর রহমানের সাথে তার বিরোধ বাধে। এ বিরোধের জের ধরে হাবিবুর রহমান পরিকল্পিতভাবে তাকে ধর্ষণ করেছে। তবে হাবিবুর রহমান তার (ধর্ষিতার) পরিবারের ক্ষতি সাধন করতে পারে এ আশঙ্কায় তিনি ধর্ষকের নামে মামলা করতে ভয় পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।




