যশোর ও সাতক্ষীরায় আলাদা সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪

লোকসমাজ ডেস্ক॥ যশোর ও সাতক্ষীরার চার উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাগুলো ঘটেছে যশোরের ঝিকরগাছা, চৌগাছা ও সাতীরার সদর ও তালা উপজেলায়।
ঝিকরগাছা (যশোর) সংবাদদাতা জানান, যশোরের ঝিকরগাছায় মাটির ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী আব্দুর রহমান (৩০) নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে, রবিবার সকালে ঝিকরগাছা-ছুটিপুর সড়কের মোল্লা ব্রিক্সের সামনে। জানা গেছে, সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে ব্র্যাকের মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান ‘বিকাশ’ এর কর্মচারী আব্দুর রহমান ঝিকরগাছা থেকে ছুটিপুর যাচ্ছিলেন। ঘটনাস্থলে মোটরসাইকেল আরোহী আব্দুর রহমান একটি মাছের ট্রাককে পাশ কাটিয়ে সামনে উঠতে যান। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগামী একটি ইটভাটার ট্রাক সজোরে ধাক্কা দিলে আব্দুর রহমান মারাত্মকভাবে জখম হন। স্থানীয়রা তাকে ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আব্দুর রহমান মনিরামপুর উপজেলার মশ্মিমনগর ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের জগোবন্ধু রায় এর ছেলে। তিনি কয়েকবছর আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন বলে জানা গেছে।
চৌগাছা (যশোর) সংবাদদাতা জানান, যশোরের চৌগাছায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত মাদ্রাসাছাত্র আল-আমীন (১৫) মারা গেছে। আল-আমীন উপজেলার স্বর্পরাজপুর গ্রামের মেছের আলীর ছেলে। ভালোবাসা দিবসে বন্ধুদের সাথে ঘুরতে গিয়ে সে দুর্ঘটনার শিকার হয়। দুর্ঘটনায় আহত আলা-আমীনের বন্ধু আব্দুল্লাহ (১৫) ঢাকা মেডিকেলের আইসিইউতে ও অন্য বন্ধু হাবিবুর রহমান (১৫) চৌগাছা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। হতাহত তিনজনই উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নের স্বর্পরাজপুর দাখিল মাদরাসার দশম শ্রেণির ছাত্র। ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলে উপজেলার কান্দি গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেয়ার পথে রবিবার রাত ৪ টার দিকে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে মারা যায় আল-আমীন। ওইদিনই বিকেলে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। স্বর্পরাজপুর দাখিল মাদরাসার সুপার আহম্মাদুল ইসলাম বলেন, ১৪ ফেব্রুয়ারি তারা তিন বন্ধু মোটরসাইকেলে ঘুরতে যায়। একপর্যায়ে বিকেলে কান্দি গ্রামের মোহাম্মদ আলীর বাড়ির পাশের সড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি মেহগনি গাছে ধাক্কা খায় তাদের মোটরসাইকেল। এ সময় মোটরসাইকেলের চালক আড়কান্দি গ্রামের জহির উদ্দিনের ছেলে হাবিবুর রহমান (১৫), স্বর্পরাজপুর গ্রামের মেছের আলীর ছেলে আল-আমীন (১৫) ও আড়কান্দি গ্রামের আসাদুর রহমানের ছেলে আব্দুল্লাহ (১৫) আহত হয়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা মডেল হাসপাতালে নিলে গুরুতর আহত আব্দুল্লাহ ও আল-আমীনকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখান থেকে আব্দুল্লাহকে ঢাকায় পাঠানো হয়। আর আল-আমীনকে স্বজনরা বাড়িতে নিয়ে আসেন। শনিবার সন্ধ্যায় তার অবস্থার অবনতি হলে পুনরায় যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নেয়া হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন চিকিৎসকরা। এরপর অ্যাম্বুলেন্সযোগে ঢাকা নেয়ার পথে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে তার মৃত্যু হয়। আহম্মাদুল ইসলাম আরো জানান, রবিবার দুপুরে নামাজে জানাজা শেষে দুপুরে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
তালা (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা জানান, সাতক্ষীরার তালা উপজেলার জাতপুর-মহান্দী সড়কে ব্যাটারি ভ্যানের ধাক্কায় প্রতীম দাস তোজো (৫)নামের এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত প্রতীম দাস পাশর্^বর্তী ডুমুরিয়া উপজেলার চন্ডিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির ছাত্র। সে আরশনগর গ্রামের বিকাশ দাসের একমাত্র ছেলে। স্কুলের প্রধান শিক বিশ্বাস খলিলুর রহমান জানান, স্কুল ছুটির পর তার মায়ের সঙ্গে বাড়িতে ফিরছিল প্রতীম। এ সময় দ্রুতগামী একটি ব্যাটারি ভ্যান ধাক্কা দিলে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে তালা হাসপাতালে নেয়ার পথে সে মারা যায়।
সাতক্ষীরা সংবাদদাতা জানান, সাতক্ষীরায় ঢাকাগামী একটি পরিবহনের চাপায় কামরুল ইসলাম (২৬) নামে এক ট্রলিচালক নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে সাতক্ষীরা-যশোর মহাসড়কের ছয়ঘরিয়া নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ট্রলিচালক সদর উপজেলার ইন্দিরা গ্রামের বাসিন্দা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কামরুল ইসলাম ট্রলি চালিয়ে যাওয়ার সময় পিছন দিক থেকে একটি পরিবহন তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। তবে ঘাতক পরিবহনটিকে আটক বা তার নাম জানাতে পারেনি পুলিশ। সাতক্ষীরা সদর থানার উপ-পরিদর্শক শ্যামাপদ জানান, পরিবহনের চাপায় ট্রলিচালক নিহত হয়েছেন। তবে কোন্ পরিবহন তাকে চাপা দিয়েছে সেটি জানা যায়নি। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

ভাগ