স্টাফ রিপোর্টার,মনিরামপুর(যশোর) ॥ যশোরের মনিরামপুরে টেকা নদীর তীরে ছিন্নমুল পরিবারকে তাড়িয়ে বসতবাড়ি দখলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভবদহপাড়ের আন্দোলনে দানা বেঁধে উঠেছে। ওই পরিবারকে বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে আন্দোলনের কর্মসূচি অনুযায়ী রবিবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে গণস্বাক্ষর। এদিকে তদন্ত টিমের প্রধান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন জানিয়েছেন অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। দু এক দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
জানা যায়, উপজেলার নেহালপুর ইউনিয়নের ভবদহের টেকা নদীর তীরে শ্মশানের খাস জমিতে দেশ স্বাধীনের আগে থেকে পাঁচাকড়ি গ্রামের রমেশ মল্লিক, সুফেন মল্লিক, উর্মিলা মল্লিক ও দিলু মল্লিকসহ ছিন্নমূল বেশ কয়েকটি পরিবার কাঁচা অর্ধকাঁচা ঘর তৈরি করে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছে। এরা সবাই দিনমজুর। গত ২ ফেব্রুয়ারি রাতে পাঁচাকড়ি গ্রামের হরেন্দ্র নাথ বিশ্বাসের ছেলে পবিত্র বিশ্বাস তার দলবল নিয়ে সুফেন মল্লিক ও তার পরিবারবর্গকে মারধরের পর সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে তাড়িয়ে দিয়ে ঘরবাড়ি দখল করে নেয়। এর পর থেকে সুফেন মল্লিক ও তার পরিবার নিখোঁজ রয়েছে। এ ঘটনায় সুফেন মল্লিকের ভাই রমেশ মল্লিক লিখিত অভিযোগ করলে ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে নেহালপুর পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই সৈয়দ বখতিয়ার হোসেনের নেতৃত্বে সালিশী সভার আয়োজন করা হয়। সালিশী সভায় নেহালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিনকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত টিম গঠন করা হয়। কমিটির প্রধান রুহুল আমিন জানান, তদন্ত করে সকল অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। দখলকারি পবিত্র যে স্ট্যাম্প প্রদর্শন করেছে তাতে উল্লেখ রয়েছে ২৪৬ নম্বর মৌজার ১৬ শতক জমি তিনি কিনেছেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ২৪৬ নম্বর হলো কপালীয়া মৌজা। আর দখল করেছে পাঁচাকড়ির ২৪৫ নম্বর মৌজার শ্মশানের জমি। এ ব্যাপারে দু এক দিনের মধ্যে লিখিত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। রুহুল আমিন অভিযোগ করেন, ছিন্নমূলদের বসতবাড়ি দখলকারী পবিত্র বিশ্বাস এলাকার চরমপন্থী সন্ত্রাসীদের সাথে নিয়ে হুমকি দেওয়া অব্যাহত রেখেছে। রমেশ মল্লিক জানান, সন্ত্রাসীদের রামরাজত্বের কারণে অন্যান্য ছিন্নমূলদের পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করা দুরুহ হয়ে পড়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে ভবদহসহ আশপাশের মানুওেষর মধ্যে ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। দখলবাজদের প্রতিহত করতে এলাকাবাসী আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করে। রবিবার ভবদহপাড়ের টেকারঘাট বালিকা বিদ্যালয় মাঠে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ থেকে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সেই কর্মসূচি অনুযায়ী রবিবার থেকে শুরু হয়েছে গণস্বাক্ষর। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন জানান, দখলবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে ইতিমধ্যে সহ¯্রাধিক স্বাক্ষর হয়েছে। দু এক দিনের মধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য স্বপন ভট্ট্রাচার্য, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা চেয়ারম্যান এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর স্মারকলিপি পেশ করা হবে। তিনি ঘোষণা দেন দখলবাজদের উচ্ছেদ করা না পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। তবে নেহালপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সৈয়দ বখতিয়ার হোসেন জানান, তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাবার পর পরবর্তি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





