এসএমসি-জিবির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ভাবতে হবে

0

দেশের শিাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অনিয়ম-দুর্নীতি, প্রভাব বিস্তার ও ক্ষমতার অপব্যবহার ব্যাপকভাবে জেঁকে বসেছে। শিক্ষা বোর্ড ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রণীত বেসরকারি স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটি (এসএমসি) ও গভর্নিং বডি (জিবি) পরিচালনার বিধিমালায় সভাপতিসহ পরিচালনা পর্ষদকে একচ্ছত্র ক্ষমতা দেয়ায় তারা কোনো কিছুর তোয়াক্কা করেন না। নিজেদের হীন স্বার্থের বিরুদ্ধে কথা বললে অধ্য ও প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষক-কর্মচারীদের বদলি, চাকরিচ্যুত করা এবং বিভিন্ন নামে-বেনামে অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করার মতো ঘটনা ঘটানো হয় অহরহ। অন্যদিকে কিছু কিছু েেত্র অধ্য ও প্রধান শিক্ষক বা অন্য শিক্ষকরা পরিচালনা পর্ষদের প্রভাবশালীদের যোগসাজশে অনিয়ম-দুর্নীতি, শিক্ষার্থীদের হয়রানি, যৌন নিপীড়নের মতো জঘন্য অপরাধ করেও পার পেয়ে যায়। বিপরীতে পরীক্ষার ফি ও বিভিন্ন আয়ের টাকা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের আড়ালে দুর্নীতি করা হয় পারস্পরিক স্বার্থ বিবেচনায় রেখে। এসব কারণে শিাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিার্থীদের কল্যাণ, প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন বিঘিœত হলেও তার পরোয়া করা হয় না। আমরা মনে করি, এভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি বৈ উপকার যেহেতু হয় না, সেহেতু কমিটিগুলোর কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখে বিদ্যমান ব্যবস্থা পর্যালোচনা করা উচিত।
আগে দু’বছর পর পর নির্বানী প্রক্রিয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কমিটিতে পরিবর্তন আসত। বর্তমানে ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন গ্রুপ এসব পদকে দখল করে নিজেদের আখের গুছিয়ে নেয়ার হাতিয়ার করার জন্য সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে। বলার অপো রাখে না, পরিচালনা কমিটিগুলোর আর্থিক দিকেই বেশি নজর থাকে এবং শিক্ষক ও শিক্ষাার্থীদের স্বার্থ তারা তেমন দেখে না। এমনকি অনেক কমিটির প্রধান ও অনেক সদস্যের তেমন শিক্ষাগত যোগ্যতাও থাকে না। ফলে তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীর কল্যাণের বিষয়গুলো ভালোভাবে বোঝেনও না। শিক্ষকদেরও যথাযথ সম্মান দিতে জানেন না। এমন কমিটিপ্রধান ও মেম্বারদের সঙ্গে শিক্ষকদের কাজ করা অনেক সময় বিব্রতকর হয়ে পড়ে। এ ধরনের লোকরা শিক্ষার্থী হয়রানিকারী ও নিপীড়নকারীদের পক্ষে অবস্থান নেয়, এমন নজিরও কম নেই। এসব কারণে জিবি ও এসএমসির আদৌ কোনো প্রয়োজনীয়তা আছে কিনা, এমন প্রশ্ন তুলেছেন অনেক শিক্ষাবিদ। আমরা মনে করি, সার্বিক বিবেচনায় কমিটির দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট করা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি; এমনকি আদৌ এমন কমিটির প্রয়োজনীয়তা আছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
কমিটির দৌরাত্ম্যের কাছে মাঠ প্রশাসন তো বটেই, খোদ শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অসহায় হয়ে থাকতে হয়, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিপীড়ন-অনিয়ম-দুর্নীতি রোধে কাঙ্তি কাজ হয় কিনা, ভর্তি, পরীক্ষা ও অন্যান্য ফি’র অর্থ কোথায় ও কীভাবে ব্যয় হয় এগুলো দেখার সময় এসেছে। শিক্ষানুরাগী ও শিক্ষার্থীবান্ধবদের কমিটিতে এনে এসব বন্ধ করা প্রয়োজন। এতে ব্যর্থ হলে কমিটির প্রয়োজন আছে কি-না তা ভাবতে হবে।