বিএম আসাদ ॥ যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের ইপিআই বিভাগে শিশুদের টিকা সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। টিকা না পেয়ে তাদের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন অর্ধশতাধিক শিশু হাসপাতালের ইপিআই বিভাগ থেকে ফিরে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ইপিআই হেডকোয়ার্টার থেকে এসব টিকা সরবরাহ না করার কারণে এ সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, বিসিটিকা ও আইপিভিটিকা হচ্ছে শিশুদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টিকা। আর টিটি-টিকা হচ্ছে অন্তস্বত্ত্বা মাসহ সকলের জন্যে প্রয়োজনীয়। টিটেনাস রোগ থেকে রক্ষা করার জন্য দেয়া হয় টিটি-টিকা। অন্যদিকে, শিশুর জন্মের পর অথবা ৪৫ দিনের ভেতর দেয়া হয় বিসিজি টিকা। জন্মের ১ মাসের ভেতর দেয় াহয় আইভিপি টিকা। এসব টিকা দেয়া না হলে শিশুরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। অথচ, যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে এসব গুরুত্বপূর্ণ টিকা পাওয়া যাচ্ছে না। গত ৫ দিন ধরে ইপিআই বিসিজি টিকা একমাস ধরে পালিও নির্র্মলের আইপি ভিটিকা ও ১০ দিন যাবত টিটি টিকা নেই। এসব টিকা না থাকার কারণে ইপিআই বিভাগ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। প্রত্যেকদিন অভিভাবকগণ তাদের শিশুদের নিয়ে টিকা দেয়ার জন্য হাসপাতালের ইপিআই বিভাগে আসছেন এবং বিমুখ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। কোনদিন ৪০/৫০ জন আবার কোনদিন ৬০ জনের অধিক শিশু ইপিআই বিভাগ থেকে টিকা নিয়ে থাকে। সরকারিভাবে হাসপাতালে বিনামূল্যে টিকা সরবরাহ করা হয়।
সূত্র জানিয়েছেন, এসব টিকা না পেয়ে শিশুদের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। ফলে অভিভাবকগণ চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ইপিআই হেটকোয়ার্টার থেকে টিকা সরবরাহ না করার কারণে এ সংকট ও সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এটা যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের সংকট না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ইপিআই হেড কোয়ার্টার আছে। সেখানকার সংকট। হেডকোয়ার্টার তেকে যখন টিকা সরবরাহ করা হয়ে থাকে, তখন শিশুদের দেয়া হয়। ্এ ব্যাপারে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায় ও আরএমও ডা. মো. আরিফ আহমেদের সাথে যোগাযোগা করা হলে তারা বলেন, হাসপাতালের শুধু নষ্ট জীপ, অ্যাম্বুলেন্স নয়। হাসপাতালে কতগুলো গাড়ীসহ অন্যান্য উপকরণ ভাল আছে আর কতগুলো নষ্ট আছে তা প্রতিমাসে সকল কর্মকর্তাকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ম্ত্রণালয়ে রিপোর্ট দিতে হয়। গাড়ীগুলো খারাপ হওয়ার পর রিপোর্ট ধারাবাহিকভাবে পাঠানো হচ্ছে। এখন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ব্যাপার। উপর থেকে যে নির্দেশ আসে তখন সেই নির্দেশ মোতাবেক তাদের কাজ করতে হয় বলে জানান হাসপাতালের দায়িত্বশীল ওই দু’কর্মকর্তা।




