আশঙ্কা মেসেজ হিসেবে গণ্য করুন

0

‘মৃত্যু অনিবার্য’আতঙ্ক সৃষ্টিকারী চীনের করোনা ভাইরাসের বিরূপ প্রভাবে বাংলাদেশের পণ্যবাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। চীনাপণ্য আমদানি বন্ধ খবরে হু হু করে বেড়ে চলেছে সকল পণ্যের দাম। ইলেক্ট্রনিক্স ও শিল্পকারখানায় ব্যবহার্য যবতীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি ইতোমধ্যেই নানা শঙ্কার জন্ম দিয়েছে। এভাবে আর তিনমাস চললে গার্মেন্টসহ ছোটো বড়ো অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাবার আশঙ্কাও প্রকাশ করছেন অনেকে। অনাকাঙ্খিত মূল্যবৃদ্ধির বিষাক্ত ছোবলে জর্জরিত হতে পারে গণমাধ্যমও। বিশেষ করে প্রিন্ট মিডিয়া মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। যার আলামত ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। দৈনিক লোকসমাজসহ বিভিন্ন পত্রিকার খবরে নিত্য ও শিল্পপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি ও সংকটের খবর প্রাধান্য পেলেও বাস্তবে ঝুঁকি বেড়েছে পত্রিকার স্বাভাবিক প্রকাশধারা বজায় রাখার ক্ষেত্রে পত্রিকার সাধারণ বিভাগ ও ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে ইতোমধ্যেই কাগজের মূল্য কেজিতে ৬ অর্থাৎ টন প্রতি ৬ হাজার টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। বেড়েছে টোনার কালী, রং, ট্রেসিং প্লেটসহ মেশিনের পার্টসের দাম। ব্যবসায়ীদের ভাষ্যমতে এই মুহূর্তে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট যোগসাজসে এসব পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে মূল্য বাড়াচ্ছে। তবে বাস্তবতা হচ্ছে আর কিছুদিন আমদানি বন্ধ থাকলে এসব পণ্যের সত্যিকার সংকট হবে। তখন এই বর্ধিত মূল্য কোথায় নিয়ে যাবে ব্যবসায়ীরা তা অনুমান করা যাচ্ছে না। দেশে যেহেতু মূল্যবৃদ্ধি রোধে কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেবার কোন বিশেষ নজীর নেই সেহেতু ব্যবসায়ীদের কোন ভয়ও নেই। ফলে তারা যা ইচ্ছা তাই করতে পারে।
ব্যবসায়ী মহলের এই বক্তব্য আমরা সঠিক মনে করি। কারণ আমদানি বন্ধের আগেই মহাজন ব্যবসায়ীরা মজুদদারী শুরু করে মূল্য বাড়িয়েছে। এই মুহূর্তেও মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গত কোন কারণ নেই। দেশে পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে চীনের সকল পণ্য। করোনা শুরুর আগেই এসব আমদানি করা হয়েছে। খোলাবাজারে কমদামে বিক্রিও হচ্ছিল না। একথা সরকারের বাণিজ্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অজানা নয়। অথচ তারা কোন পদক্ষেপই নিচ্ছে না। এমনকি করোনার অজুহাতে পিয়াজ, রসুন, আদার দাম বাড়ানোর পরও তারা শব্দহীন দর্শক। ফলে অচিরেই সকল পণ্যের বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি এবং লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কা আমাদেরও হচ্ছে। আমরা এই আশঙ্কাকে একটি মেসেজ হিসেবে গ্রহণ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ রাখছি। আমরা আশা করি সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্তারা সময় থাকতে বাজার ও মূল্য নিয়ন্ত্রণের কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।