স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা, বিশিষ্ট সাংবাদিক নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেছেন, স্বাধীনতা উত্তরকালে মিডিয়ার চরিত্র বদলেছে। সাংবাদিকরা এখন শাসকদের সঠিক পথে আনতে ওয়াচডগের ভূমিকা পালন করছেন। পূর্ব পাকিস্তান আমলে সাংবাদিকরা স্বাধীনতা সংগ্রাম এগিয়ে নেওয়ার জন্য কাজ করতেন। এখন সাংবাদিকরা আরও অগ্রসর হয়েছেন। তিনি বলেন, সাহসিকতা ছাড়া সাংবাদিকতা হতে পারে না। সাংবাদিকদের সাহসী হতে হবে। নীতি-নৈতিকতাও থাকতে হবে। নীতি-নৈতিকতাবিবর্জিত সাংবাদিকতা আসলে সাংবাদিকতা নয়।
মঙ্গলবার দুপুরে যশোর সার্কিট হাউজে আয়োজিত সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘সাংবাদিকতার নীতিমালা, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় লণীয় বিষয়সমূহ ও তথ্য অধিকার আইন অবহিতকরণ’ শীর্ষক এই প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল। যশোর জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এই কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি মোহাম্মদ মমতাজ উদ্দিন আহমেদ। আলোচনাকালে ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, রাজনীতিবিদরা কখনো কখনো সাহসী হন। আর সাংবাদিকরা প্রতিদিন সাহসিকতার পরিচয় দেন। রাজনীতিকরা মতায় থাকলে সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ, দায়িত্বশীল হতে বলেন। আর বিরোধী দলে গেলে সাহসী সাংবাদিকতা করতে বলেন। আলোচনাকালে তিনি যশোরসহ দণি-পশ্চিমাঞ্চলের নিহত সাহসী সাংবাদিকদের স্মরণ করেন। রানার সম্পাদক শহীদ গোলাম মাজেদের নাম ওয়াশিংটন প্রেসকাবে খোদাই করা আছে। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের স্থায়ী বন্ধু হলো সমাজের বঞ্চিতরা। আর স্থায়ী শত্র“ হলো মতাশালীরা। ঝুঁকি, নিরাপত্তাহীনতা, সীমাবদ্ধতা থাকবে। তার মধ্যে থেকেই সাংবাদিকতা করতে হবে। সাংবাদিকরা শুধু বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকেন। এটিই তাদের নৈতিকতা।কর্মশালায় আরো আলোচনা করেন প্রেস কাউন্সিলের সদস্য বিশিষ্ট সাংবাদিক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, সদস্য শাহ আলম এবং সরকারের যুগ্ম সচিব আব্দুল মজিদ। পরে কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী যশোরের সাংবাদিকদের মাঝে সনদ বিতরণ করা হয়।সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রফিকুল হাসান। আরো বক্তব্য দেন প্রেসকাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন ও সাবেক সভাপতি একরাম-উদ- দ্দৌলা।





