‘নতুন নতুন ব্যাংক খুলে জনগণের টাকা মেরে খাচ্ছে সরকার-মালিকরা’

লোকসমাজ ডেস্ক॥ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, মতাসীন আওয়ামী লীগের ব্যবসায়ীরা ওপর মহলের সহযোগিতায় ব্যাংক খুলে বসে আছে। জনগণ টাকা জমা দিলে সেগুলো মেরে খাচ্ছে সরকার এবং ব্যাংকের মালিকরা। মঙ্গলবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন অভিযোগ করেন। রিজভী বলেন, ‘দেশে চারদিকে লুটপাটের মহামারি চলছে। সরকারের লোকজন যে যেভাবে পারছে, বেপরোয়াভাবে লুটে নিচ্ছে জনগণের অর্থ সম্পদ। দেশের মানুষ ফৌত হয়ে গেছে।’ তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লুটপাটের বড় খাত কেবল শেয়ারবাজারে সীমাবদ্ধ নেই। ব্যাংকগুলো একটির পর একটি দেউলিয়া করার পর এখন জনগণের পকেট কাটতে সরকার নতুন নতুন ব্যাংক অনুমোদন দিচ্ছে। ব্যাংকে ব্যাংকে সয়লাব এখন দেশ।’ বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘রবিবারও আওয়ামী লীগের এক নেতার নামে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে একটি ব্যাংক। এই ব্যাংকগুলো করা হচ্ছে জনগণের পকেট কাটার জন্য।’ তিনি বলেন, ‘একদিকে যেমন ঋণ নিয়ে চলছে সরকার, পাশাপাশি বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত এবং সেক্টর করপোরেশনের উদ্বৃত্ত অর্থ তুলে নিয়ে যাচ্ছে সরকার জোর করে। এর পাশাপাশি শুরু হয়েছে ব্যাংক নিয়ে নতুন খেলা।’ রিজভী বলেন, ‘অর্থ-সম্পদ গচ্ছিত রাখার ব্যাংক এখন রীতিমতো আতঙ্কে পরিণত হচ্ছে। অন্যদিকে নতুন করে আইন বানানো হচ্ছে-কোনো ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে গেলে আমানতকারীর যত আমানতই থাকুক না কেন, মাত্র ১ লাখ টাকা বীমার টাকা দেওয়া হবে।’ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, ‘একদিকে মতাসীন দলের ব্যবসায়ীরা ওপর মহলের সহযোগিতায় ব্যাংক খুলে বসে আছে। জনগণ টাকা জমা দিলে সেগুলো মেরে খাচ্ছে সরকার এবং ব্যাংক মালিকরা।’ ‘আর ব্যাংক বন্ধ করে দিলে গ্রাহকের শত কোটি টাকার ব্যালেন্স থাকলেও তাকে বীমার ১ লাখ টাকা দিয়ে বিদায় করে দেওয়া হবে। কি ভয়ংকর অবস্থা! এটাতো রীতিমতো রাসরাজ্যে পরিণত করা হয়েছে দেশকে’ যোগ করেন তিনি। রিজভী দাবি করেন, জনগণের মধ্যে এখন এমন ভীতিকর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে যে, নতুন এবং সন্দেহজনক ব্যাংক থেকে তারা আমানত তুলে ফেলতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক স্ট্যান্ডবাজি করতে গিয়ে এই নিশিরাতের লুটেরা সরকার যে বিশাল বাজেট তৈরি করেছিল, তার জন্য অর্থের সংস্থান করতে পারছে না। বিএনপি মুখপাত্রের দাবি. আমদানি-রপ্তানি মুখ থুবড়ে পড়েছে, রাজস্ব আয় কম হচ্ছে, সঞ্চয়পত্র থেকে আয় চলে এসেছে নগণ্য পর্যায়ে। ফলে সরকার চলছে ব্যাংক থেকে টাকা ধার করে। তিনি বলেন, এ বছর বাজেটের ল্যমাত্রা অনুযায়ী ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের ল্যমাত্রা ছিল ৪৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা। অথচ অর্থবছরের ছয় মাসের মধ্যেই সেই ল্যমাত্রা ছাড়িয়ে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া হয়েছে ৫১ হাজার ৭৪১ কোটি টাকা। রিজভী বলেন, ‘বাকি ছয় মাসে কী অবস্থা হবে তা সহজেই অনুমেয়। ১০ বছরে ব্যাংকের কাছে সরকারের নিট ঋণ প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা। এই টাকা আর পরিশোধ করবে না সরকার।’ সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ভাগ