অভিনন্দন যুবাদের, বিচার হোক ভারতের

0

বাংলাদেশের অর্জনের খাতায় শ্রেষ্ঠ অর্জনটি লেখা হয়েছে মাত্র একরাত আগে। যুব বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হবার গৌরবময় ইতিহাসটি রচনা করেছে অনূর্ধ্ব ১৯ বছর বয়সী যুব ক্রিকেটাররা। হতে পারে এটা ক্রিড়াঙ্গনের অর্জন। তারপরও স্বীকার করতেই হবে এটিই বাংলাদেশের সেরা অর্জন। এই অর্জনটি ছাড়া স্মরণকালে সারা পৃথিবীর সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশকে প্রশংসার শিরোনামে পরিণত করার মতো আর কোন অর্জন নেই। যুবকদের এই বিশ্বজয়ের সংবাদটি গতকাল বিশ্বের সর্বত্র আলোচিত হয়েছে বারবার। যুব ক্রিকেটারদের কাছে তাই জাতি কৃতজ্ঞ নিঃসন্দেহে। আমরা তাদের অভিনন্দন জানাই, ভালোবাসার ভান্ডার নিঃশেষ করে।
বাংলাদেশের যুব ক্রিকেটারদের এই বিশ্বজয় অনেক কারণেই ইতিহাস হয়ে থাকবে। প্রথমত তারা বিশ্বজয় করেছে। জিতেছে অপরাজিত বীরের মতো। বিশ্ব জয়ের পথে ক্রিকেট দুনিয়ার সেরাদের পরাজিত করেছে অনেকটা হেসে খেলেই। জুনিয়র হলেও তারা যে টাইগার তার প্রমাণ দিয়েছে প্রতিটি খেলায়। সর্বশেষ তারা চূর্ণবিচূর্ণ করেছে ক্রিকেট দুনিয়ায় স্বঘোষিত মোড়ল ভারতের দম্ভ -আধিপত্যকে। এই ভারত ক্ষুদে বাঘের থাবায় ছিন্নবিচ্ছিন্ন হবার আগে টানা চারবারই চ্যাম্পিয়ন ছিল এবারও তারা টানা পঞ্চম জয়ের ইতিহাস গড়ার স্বপ্নে বিভোর ছিল। যে কারণে পরাজয়ের যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে মাঠে খেলার মাঝে ও শেষে ক্রিকেটে নিষিদ্ধ সব ঘটনা ঘটিয়েছে। ব্যাটে বলের লড়াইয়ে বিপর্যস্ত হয়ে মাঠে নিকৃষ্ট শ্রেণির মানুষের মতো, গালাগাল করেছে সারাক্ষণ। জবাবে ভদ্রতার অনুস্মরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশী যুবকরা। এতে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে সরাসরি গুন্ডামিতে নামে মোদির ভারতীয় যুবারা। তারা রীতিমতো হামলা চালায় টাইগারদের ওপর। হাতাহাতির এক পর্যায়ে স্পর্ধার শেষ মাত্রায় উঠে তারা বাংলাদেশের পতাকা ছিনিয়ে নিতে চেষ্টা করে। যদিও তা সামাল দেন ভারতের টিম কর্তারা, তবুও আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।
আমরা ক্রিকেটের বিশ্ব সংস্থাকে স্মরণ করাতে চাই বাংলাদেশের পতাকা শুধুই একটি পতাকা নয়। এ পতাকা অর্জিত হয়েছে ভাষা আন্দোলন ও মহান মুুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে। ৩০ লাখ শহীদ আর ৩ লাখ মা বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত এ পতাকা প্রতিটি বাংলাদেশীর প্রাণ। এর অবমাননা মানে আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব তথা স্বাধীন সত্ত্বাকে অবমাননা করা। আমরা এটা কোনভাবেই মেনে নিতে পারি না। আমরা এ ঘটনার তদন্ত ও বিচার চাই। আমরা আরও স্মরণ করতে চাই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক আকবর আলী ভারতীয় খেলোয়াড়দের প্রতিহত করার জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেও ভারতের অধিনায়ক কোন অনুশোচনা প্রকাশ করেননি। এটা ক্রিকেট আইন ও বিধানে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।
আমরা বিশ্বজয় ও খেলার মাঠে ঘটে যাওয়া ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশের মহৎ গুণের জন্য জুনিয়র বাংলাদেশের অধিনায়ক আকবর আলী ও তার সাথীদের আবারো অভিনন্দন জানাই। একই সাথে তাদের বলি খেলার মাঠে প্রতিপক্ষের উস্কানীতে পা দেয়া হবে ভুল সিদ্ধান্ত। এতে জয় হাতছাড়া হয়। তাছাড়া ক্রিকেট হচ্ছে ভদ্রলোকের খেলা। অন্যরা ছোটলোক হলে তাদের সাথে পাল্লা দিয়ে আমাদেরও হতে হবে এটা কোন ভদ্রলোকের কাজ না। আমরা আশা করবো, এ ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আকবর আলীরাই আমাদের উপহার দেবে মূল বিশ্বকাপ। জাতিকে ভাষাবে আনন্দের সাগরে। পতাকা উড়াবে বিশ্বের আকাশে। আমরা অপেক্ষা করবো, সেইদিনের আশায়।