করোনা ক্রমেই মারাত্মক হচ্ছে

0

এতে কোন সন্দেহ নেই যে, বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে করোনা ভাইরাস। চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া এই রোগে মৃতের সংখ্যা ৭শ’ ছাড়িয়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে চীনে নভেল করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে চার গুণ হয়েছে। চীনের মূল ভূখণ্ডে মৃতের সংখ্যা গতকাল ৭২২ জনে দাঁড়িয়েছে। চীনের মূল ভূখণ্ডজুড়ে আক্রান্তের মোট সংখ্যা বুধবার পর্যন্ত ৩৪ হাজার ছাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এ্যালার্জি এ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস’-এর পরিচালক সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘করোনা ভাইরাস খুবই ছোঁয়াচে। এটি নিশ্চিতভাবেই বৈশ্বিক মহামারীর দিকে অগ্রসর হচ্ছে।’ জি-৭ভুক্ত দেশগুলোর স্বাস্থ্যমন্ত্রীরা এক বৈঠকে মিলিত হয়ে ভ্রমণ বিধি-নিষেধ, ভাইরাল গবেষণা এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও চীনের সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়ে একমত হয়েছেন। অনেক দেশ চীনের আক্রান্ত এলাকা থেকে তাদের নাগরিকদের সরিয়ে নিয়েছে।
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের নানামাত্রিক সম্পর্ক বিদ্যমান। বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগীদের অন্যতম দেশ হচ্ছে চীন। ব্যবসাবাণিজ্য ও উন্নয়ন কাজে চীন ও বাংলাদেশের নিয়মিত বিনিময় রয়েছে। ফলে চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অন্যান্য দেশের মতো ঝুঁকি বাংলাদেশেরও থাকছে। যদিও বাংলাদেশে কারও শরীরে এখনও স্পষ্টত এই ভাইরাস শনাক্ত হয়নি। বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিসিসিআই) হিসাবমতে, এর ফলে ঝুঁকিতে পড়েছে অন্তত ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্য, স্থানীয় মুদ্রায় যা প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা। বলার অপো রাখে না, যে অবস্থা চলছে তা দীর্ঘমেয়াদী হলে বাংলাদেশকে এর অনেক বেশি মূল্য দিতে হতে পারে; বিশেষ করে কাঁচামালের অভাবে অনেক ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া মূলধনী যন্ত্রপাতির অভাবে অনেক নতুন ফ্যাক্টরি চালু করা সম্ভব হবে না। ফলে পূরণ হবে না রফতানির ল্যমাত্রা। ইতোমধ্যে বৈশ্বিক পণ্য পরিবহনে সঙ্কট দেখা দিয়েছে।
আমরা আগেও বলেছি, রোগব্যাধি নিয়ে আতঙ্ক নয়, দরকার হলো সতর্কতা ও সচেতনতা। চীন থেকে ‘করোনা ভাইরাস’ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় বিশ্বব্যাপী জরুরী অবস্থা ঘোষণা করেছে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা। দুই সপ্তাহ আগে আমরা সম্পাদকীয়তে মত প্রকাশ করি যে, করোনা ভাইরাস যেন কোনভাবেই বাংলাদেশকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে না পারে সে ব্যাাপারে আগাম ব্যবস্থা নেয়া সমীচীন। বিদেশ থেকে আসা নাগরিকদের পরীা-নিরীা করে প্রবেশের অনুমতি দেয়ার পরামর্শও ছিল সে লেখায়।। বাংলাদেশ এখন বিশ্ব আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বিশ্বের প্রায় সব দেশ থেকেই বাংলাদেশে পর্যটক বা ব্যবসায়ীদের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। ফলে এই ভাইরাসটি বাংলাদেশে প্রবেশ করার শঙ্কা প্রবল। তাই সবার, বিশেষ করে চীনফেরতদের বিশেষ স্বাস্থ্যপরীা অত্যাবশ্যক। সব মহল করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সতর্ক রয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় সব পদপে নিচ্ছেন, এটি আমাদের আশা এবং স্বস্তির বিষয়। তবে এক্ষেত্রে সরকারকে সবচেয়ে দায়িত্ব নিতে হবে। জনগণকেও দায়িত্বশীল ও সচেতন হতে হবে। ইতোমধ্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা কিছু পরামর্শ দিয়েছেন যেমন- ঘরের বাইরে মাস্ক ব্যবহার করা, হাত ও খাবার ভালভাবে পরিষ্কার করে খাবার খাওয়া- এগুলো অবশ্যই মেনে চলতে হবে। এছাড়াও অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাধিক পরামর্শ দিচ্ছেন। সেগুলোও মেনে চলা প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে করোনা একজন থেকে হাজার জনে ছড়িয়ে পড়তে সময় নিচ্ছে না এবং এর যথাযথ চিকিৎসা এখনও জানা যায়নি।