অভয়নগরে অস্ত্র-গুলি উদ্ধারের ঘটনায় উত্তেজনা, আটক চার

স্টাফ রিপোর্টার, অভয়নগর (যশোর) ॥ যশোরের অভয়নগরে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ ৪ জনকে আটক করেছে অভয়নগর থানার পুলিশ। তবে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। অভয়নগর থানা পুলিশ বিষয়টির তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ জানায়, শনিবার রাত দুটোর দিকে এলাকাবাসীর মাধ্যমে খবর পেয়ে অভয়নগর উপজেলার আন্ধা গ্রামের আদিত্য রায়ের বাড়ির ধানের গোলা থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ওই এলাকার চরমপন্থিদলের অন্যতম সদস্য হিরামন, কুমারেশ, সুব্রত মল্লিক ও স্বপন ভদ্র নামের চারজনকে আটক করা হয়।
তবে স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, শুক্রবার বিকেলে আদিত্য রায় তার ওই ধানের গোলা পরিস্কার করতে গিয়ে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি দেখতে পান। এসময় তিনি স্থানীয়দের বিষয়টি জানিয়ে তাকে ফাঁসাতে ওই গোলায় অস্ত্র রাখা হয়েছে এমন সন্দেহে কুমারেশ নামের এক সন্ত্রাসীকে ধরে আনেন। এরপর স্থানীয়দের উপস্থিতিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও মারপিট করা হয়। এক পর্যায়ে কুমারেশ ওই গোলার মধ্যে অস্ত্র রাখার বিষয়টি জানে বলে স্বীকার করে। এসময় সে এ ঘটনার সাথে জড়িতদের নামও প্রকাশ করে। যাদেরকে পরে পুলিশ আটক করেছে। সূত্রগুলো জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের সময় কুমারেশ ভারতে বসবাসরত ওই এলাকার দীপংকর নামের একজনের নাম প্রকাশ করে এবং তার ইশারায় অস্ত্র রাখা হয়েছে বলেও জানায়। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করে এবং আদিত্য ও তার সহযোগীরা এ ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। রাত একটার দিকে এলাকাবাসী বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও অভয়নগর থানা পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই দুটি অস্ত্র ও এক রাউন্ড গুলি নিজেদের হেফাজতে নিয়ে নেয় এবং কুমারেশকে আটক করে। পরে পুলিশ এলাকাবাসীর সহায়তায় রাতেই হিরামন, সুব্রত মল্লিক ও স্বপন ভদ্রকে আটক করে। এসময় আদিত্য রায়কেও থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরে সকালে ভারতে বসবাসরত দীপংকরের ভাই শুভঙ্করকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেয়া হয়। পুলিশের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, ভারতে বসবাসরত দীপংকরের বিরুদ্ধে অস্ত্র ব্যবসাসহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অভিযোগ রয়েছে। এদিকে ওই অস্ত্র উদ্ধার ও চারজনকে আটকের ঘটনায় আন্ধা গ্রামে উত্তেজনার পাশাপাশি আতঙ্কও দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে অভয়নগর থানা পুলিশের ওসি মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার রহস্য উদঘাটনে আমরা জোরালোভাবে কাজ করছি। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।’

ভাগ