আদিত্যও ধরা : প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীকে ফাঁসাতে গিয়ে অস্ত্রসহ আটক দুই চরমপন্থি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের অভয়নগর উপজেলার আন্দা গ্রামে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গিয়ে দুই চরমপন্থি সন্ত্রাসী আগ্নেয়াস্ত্রসহ আটক হয়েছে। পুলিশ প্রতিপক্ষ ওই সন্ত্রাসীকেও আটক করেছে। অপরদিকে উভয় সন্ত্রাসী গ্রুপ মাছের ঘেরে চাঁদাবাজির সাথে জড়িত। তাদের চাঁদাবাজি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য পুলিশের হাতে রয়েছে।
আটক উভয় গ্রুপের সন্ত্রাসীরা হচ্ছে-অভয়নগর উপজেলার আন্দা গ্রামের মৃত দেবদাস রায়ের ছেলে আদিত্য রায়, সমার মল্লিকের ছেলে কুমারেশ মল্লিক ও জগদীশ শিকদারের ছেলে হীরামনি শিকদার।
গতকাল রোববার দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আন্দা গ্রামে আধিপত্য বিস্তার ও ঘেরে চাঁদাবাজি নিয়ে দুটি চরমপন্থি সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছে। একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছে আন্দা গ্রামের আদিত্য এবং অপর গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছে একই গ্রামের গনেশ মল্লিকের ছেলে দীপঙ্কর। বর্তমানে দীপঙ্কর ভারতে রয়েছে। সেখানে অবস্থান করে সে আন্দা গ্রামে তার সন্ত্রাসী গ্রুপ পরিচালনা করে আসছে। তিনি জানান, প্রতিপক্ষ আদিত্যকে ফাঁসানোর জন্য দীপঙ্কর দুই সহযোগী কুমারেশ মল্লিক ও হীরামনি শিকদারকে দিয়ে তার (আদিত্য) ধানের গোলার ভেতর একটি ওয়ান শ্যুটারগান, একটি রিভলবার ও দুই রাউন্ড গুলি রেখে আসে। আদিত্যের হাঁসের খামার আছে। গত শনিবার ভোররাতে সে গোলার ভেতর থেকে হাঁসের জন্য খাবার আনতে গিয়ে ওই অস্ত্র ও গুলি দেখতে পায়। এ সময় আদিত্য তার কয়েকজন সহযোগীকে ডেকে এর সাথে জড়িতদের সন্ধান করতে বলে। এক পর্যায়ে আদিত্যের সহযোগীরা প্রতিপক্ষ দীপঙ্করের দুই সহযোগী কুমারেশ মল্লিক ও হীরামনি শিকদারকে ধরে এনে মারপিট করলে তারা আদিত্যের গোলার ভেতর অস্ত্র ও গুলি রেখে আসার কথা স্বীকার করে। তারা আরও জানায় যে, আদিত্যকে ফাঁসানোর জন্য দীপঙ্করের কথামত তারা গোলার ভেতর অস্ত্র-গুলি রেখেছিলো। মহিতোষ নামে এক ব্যক্তি দীপঙ্করের পাঠানো অস্ত্র ও গুলি তাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলো। পরে আদিত্য পুলিশকে এ খবর দেয়।
পুলিশের ওই মুখপাত্র বলেন, অভয়নগর থানা পুলিশের ওসি তাজুল ইসলাম ডিবি পুলিশের সহায়তায় ঘটনাস্থলে গিয়ে আদিত্যের বাড়িতে পাওয়া অস্ত্র-গুলিসহ কুমারেশ মল্লিক ও হীরামনি শিকদারকে আটক করেন। একই সময় আদিত্যকেও আটক করা হয়। তিনি বলেন, ইতোপূর্বে সম্বলডাঙ্গা বিলের পানি সেচের ইজাদার মনিরুজ্জামান ও তার শ্যালককে গুলি করার ঘটনায় আটক সন্ত্রাসী দেবু সরকারের সহযোগী আদিত্য। দেবু সরকার আটকের পর ডিবি পুলিশের কাছে তার সহযোগী আদিত্যের নাম প্রকাশ করেছিলো। এ কারণে পুলিশ আদিত্যকে আটকের পর দেবু সরকারের বিরুদ্ধে দায়ের করা অস্ত্র আইনের মামলায় রোববার তাকে আদালতে সোপর্দ করেছে। তিনি আরো বলেন, তারা দীপঙ্করের এক ভাইকে আটক করেছিলেন। পরে তদন্ত করে নিশ্চিত হন যে, দীপঙ্করের ভাই কোন অপরাধমূলক কর্মকা-ের সাথে জড়িত নন। এ কারণে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, অভয়নগরে একধিক সন্ত্রাসী গ্রুপ রয়েছে। এরা মূলত মাছের ঘের কেন্দ্রিক চাঁদাবাজির সাথে জড়িত। দেবু সরকার, আদিত্য এবং দীপঙ্করও পৃথক সন্ত্রাসী গ্রুপ তৈরি করে চাঁদাবাজি চালিয়ে আসছে। এর মধ্যে দীপঙ্কর বর্তমানে ভারতে অবস্থান করে অভয়নগরে তার সহযোগীদের দিয়ে চাঁদাবাজি করছে। চরমপন্থি সংগঠনের নেতা প্রশান্ত ওরফে প্রো মারা যাওয়ার পর সে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নিউ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির নেতা পরিচয়ে এলাকায় মাছের ঘের দখলসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকা- ও চাঁদাবাজিতে লিপ্ত রয়েছে। পুলিশ এই চরমপন্থি সন্ত্রাসীকেও আটকের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

ভাগ