দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থান আরো পোক্ত করল ভারত

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ সময়টা ২০১৮ সাল। বৈশ্বিক ইস্পাত উৎপাদন খাতে নতুন মাইলফলক গড়ে ভারত। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ ইস্পাত উৎপাদনকারী দেশের স্বীকৃতি ধরে রাখা জাপানকে পেছনে ফেলে দেশটি। এর মধ্য দিয়ে ইস্পাত উৎপাদনকারী দেশগুলোর বৈশ্বিক শীর্ষ তালিকায় চীনের পর দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে আসে ভারতের নাম। জাপান চলে যায় তৃতীয় অবস্থানে। গত বছর ভারতের ইস্পাত উৎপাদন খাত আরো চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। বছরের ব্যবধানে শিল্প ধাতুটির উৎপাদন বেড়েছে। বিপরীতে জাপানের ইস্পাত উৎপাদন খাত নতুন করে মন্দায় ডুবেছে। এ পরিস্থিতি বৈশ্বিক ইস্পাত উৎপাদন খাতে ভারতের দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখতে সহায়ক হয়েছে।
ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের (ডব্লিউএসএ) বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০১৭ সালে ভারতে সব মিলিয়ে ১০ কোটি ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন হয়েছিল। পরের বছর দেশটিতে শিল্প ধাতুটির উৎপাদনে ৭ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়। ওই সময় ভারতীয় কারখানাগুলোয় ইস্পাতের সম্মিলিত উৎপাদন দাঁড়ায় ১০ কোটি ৯৩ লাখ টনে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ভারতে শিল্প ধাতুটির উৎপাদন বেড়েছিল ৭৮ লাখ টন।
প্রবৃদ্ধির এ ধারা গত বছরও বিদ্যমান ছিল। ২০১৯ সাল শেষে ভারতীয় কারখানাগুলোয় সব মিলিয়ে ১১ কোটি ১২ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে ডব্লিউএসএ। সে হিসাবে, গত বছর দেশটিতে শিল্প ধাতুটির উৎপাদন ২০১৮ সালের তুলনায় ১৯ লাখ টন বেড়েছে।
অন্যদিকে ২০১৮ সালে জাপানে সব মিলিয়ে ১০ কোটি ৪৩ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে ডব্লিউএসএ। আর গত বছর দেশটিতে শিল্প ধাতুটির উৎপাদন কমে দাঁড়িয়েছে ৯ কোটি ৯৩ লাখ টনে। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে জাপানে ইস্পাতের সম্মিলিত উৎপাদন কমেছে ৫০ লাখ টন।
ডব্লিউএসএর বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০১৮ সালে জাপানের তুলনায় ভারতে ৫০ লাখ টন অতিরিক্ত ইস্পাত উৎপাদন হয়েছিল। এর মধ্য দিয়ে ওই সময় প্রথমবারের মতো জাপানকে টপকে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ ইস্পাত উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে চীনের পর জায়গা করে নেয় ভারত।
বিশ্লেষকরা ধারণা করেছিলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই ঐতিহ্যবাহী ইস্পাত খাতে ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবে জাপান। উৎপাদন বাড়িয়ে দেশটি শীর্ষ উৎপাদনকারীর তালিকায় হারানো অবস্থান ফিরে পাবে। তবে বাস্তবে হয়েছে ঠিক উল্টো। গত বছর ভারতে ইস্পাত উৎপাদন বাড়লেও, জাপানে কমেছে। এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের ব্যবধান আরো বেড়েছে। দ্বিতীয় শীর্ষ উৎপাদনকারী হিসেবে ভারতের অবস্থান আরো পোক্ত হয়েছে। ডব্লিউএসএর হিসাব অনুযায়ী, বিদায়ী বছরে জাপানের তুলনায় ভারতে অতিরিক্ত ১ কোটি ১৯ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন হয়েছে।
এ বিষয়ে ভারতের পার্লামেন্টে দেয়া এক বক্তব্যে দেশটির কেন্দ্রীয় ইস্পাতমন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, ইস্পাত খাতের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ খুব কম। মূলত বেসরকারি খাতের ওপর ভর করে ভারতীয় ইস্পাত শিল্প দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। এমনকি সরকারের পক্ষ থেকে এ খাতের জন্য বার্ষিক উৎপাদন লক্ষ্য নির্ধারণ করে দেয়া হয়নি। তার পরও ভারতীয় ইস্পাত শিল্পের এ দ্রুত বিকাশ সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য খুবই ইতিবাচক।
ভারতে ইস্পাত উৎপাদনে চাঙ্গা ভাবের পেছনে অভ্যন্তরীণ বাজারে বাড়তি চাহিদার বিষয়টি চিহ্নিত করেছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, দেশজুড়ে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণকাজ চলছে। বিশেষত রেলওয়ে, সড়ক ও সেতু অবকাঠামো, আবাসন, প্রভৃতি খাতের নির্মাণ প্রকল্পগুলোয় বিপুল পরিমাণ ইস্পাত প্রয়োজন হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আমদানির পরিবর্তে নিজস্ব উৎপাদন দিয়ে ক্রমবর্ধমান এ চাহিদা পূরণ করা সহজ ও ব্যয়সাশ্রয়ী। বাজারে চাহিদা বেশি থাকায় ভারতীয় উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো শিল্প ধাতুটির উৎপাদন বাড়াতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। সব মিলিয়ে তুমুল চাঙ্গা ভাব বজায় রয়েছে ভারতীয় ইস্পাত উৎপাদনে।
এদিকে ডব্লিউএসএর বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর বৈশ্বিক ইস্পাত উৎপাদনে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির দেখা মিলেছে। এ সময় বিশ্বজুড়ে শিল্প ধাতুটির সম্মিলিত উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ১৮৬ কোটি ৯৯ লাখ টনে। এর আগের বছর বিশ্বজুড়ে সব মিলিয়ে ১৮০ কোটি ৮৪ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদন হয়েছিল। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে শিল্প ধাতুটির বৈশ্বিক উৎপাদন বেড়েছে ৬ কোটি ১৫ লাখ টন।
গত বছর বিশ্বের শীর্ষ ইস্পাত উৎপাদনকারী দেশ চীনে শিল্প ধাতুটির উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৯৯ কোটি ৬৩ লাখ টনে। এক বছরের ব্যবধানে দেশটিতে ইস্পাতের উৎপাদন বেড়েছে ৮ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০১৮ সালে দেশটি সব মিলিয়ে ৯২ কোটি টন ইস্পাত উৎপাদন করেছিল।