রফতানি আয় কমেই যাচ্ছে

0

সম্প্রতি রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) যে হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) দুই হাজার দু’শ’ বিরানব্বই কোটি ডলারের পণ্য রফতানি করেছে বাংলাদেশ। এই অঙ্ক গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৫ দশমিক ২১ শতাংশ কম। অর্থাৎ ল্যমাত্রার চেয়ে আয় কমেছে ১৩ শতাংশ। এমনকি গত বছরের জানুয়ারি মাসের চেয়ে এ বছরের জানুয়ারি মাসের হিসাব টানলে দেখা যায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ কম যা ল্যমাত্রার চেয়ে ১৪ দশমিক ২৪ শতাংশ কম। এ বছরের জানুয়ারি মাসে ল্যমাত্রা ধরা ছিল ৪২১ কোটি ৮০ লাখ ডলার কিন্তু পণ্য রফতানি হয়েছে ৩৬১ কোটি ৭৩ লাখ ডলার। তফাতটা শুধু এক মাসেরই নয়। গত অর্থবছর অর্থাৎ ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত পণ্য রফতানি হয়েছিল ২ হাজার ৪১৮ কোটি ডলার। আর এ বছরের অর্থবছরে জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত রফতানি হয়েছে ২ হাজার ২৯২ কোটি ডলার। যদিও এর মধ্যে নগদ প্রণোদনা এবং সরকারের বিভিন্ন পদপে নেয়া হয়েছিল তা সত্ত্বেও কমেছে রফতানি আয়। সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুয়্যী এর উল্লেখযোগ্য কারণ হচ্ছে তৈরি পোশাক, চামড়া, প্লাস্টিকসহ বড় খাতগুলোর রফতানি কমেছে, যার প্রভাব পড়েছে পুরো রফতানি আয়ে। এ ছাড়া দেশের রফতানি আয়ের সিংহভাগই আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। কিন্তু বিশ্ব বাজারে পোশাকের চাহিদা কম, তাই অর্ডারও কম আসছে। যার ফলে কমে যাচ্ছে পণ্যের মূল্যও। পাশাপাশি ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন না করা, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের হার, অবকাঠামোগত সমস্যা রফতানি বাণিজ্যে নেতিবাচক ধারা তৈরি করেছে। এর মধ্যে বিশ্বব্যাপী এখন আতঙ্কের এক নাম করোনা ভাইরাস। যা ইতোমধ্যে চীনের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা, বাড়ছে মৃত্যু। এর প্রভাব পড়ছে সারা বিশ্বে। কারণ একথা সত্য যে, বিশ্ব বাণিজ্যে চীন এখন মতাধর এক দেশ। তবে এ ভাইরাসের কারণে চীনের ব্যবসাবাণিজ্যেও দেখা দিয়েছে মন্দা। এরই মধ্যে অনেক দেশ চীনের সঙ্গে স্বল্প সময়ের জন্য হলেও বাণিজ্য বিরতি দিয়েছে। যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়বে। তৈরি পোশাক খাত, চামড়া কিংবা প্লাস্টিক খাতে রফতানি প্রবৃদ্ধি কমলেও বেড়েছে পাটজাত পণ্যের প্রবৃদ্ধির হার। চলতি অর্থবছরের জানুয়ারির শেষে পাট ও পাটজাতপণ্য রফতানি করে বাংলাদেশ আয় করেছে ৬০ কোটি ২৫ লাখ ডলার। যা নির্ধারিত ল্যমাত্রার চেয়ে ৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ বেশি। বিশ্বব্যাপী পাঠজাত পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় এই রফতানি বেড়েছে। এদিকটায় গুরুত্ব দিলে অনেক ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া সম্ভব।
আমরা মনে কির, শুধু বৈশ্বিক সমস্যা নয়, সরকারের রফতাতি সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো বাণিজ্যিক পরিকল্পনা গ্রহণ ও যথাযথ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়ায় বাংলাদেশের রফতানি আয় রেডর্ক পরিমাণ কমেছে। সরকার ভূমিকা না নিলে বড় ক্ষতি হতে পারে।