ক্যান্সার নিয়ে যুগান্তকারী গবেষণা

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ ক্যান্সার নিয়ে এ যাবতকালের মধ্যে যুগান্তকারী গবেষণা করেছেন এক হাজারের বেশি বিজ্ঞানী। এতে তারা ক্যান্সারের ধরণ সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি বিস্তারিত চিত্র অঙ্কন করেছেন। এর ফলে ক্যান্সার নির্ণয়ের উন্নততর পরীক্ষা পদ্ধতি উদ্ভাবন সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ পরীক্ষার সাহায্যে আগেভাগেই ক্যান্সার সনাক্ত করা সহজ হতে পারে। গবেষণাকারী বিজ্ঞানীরা বলেছেন, ক্যান্সার হলো এক লাখ পিস জিগস (Jigsaw) এর মতো। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত শতকরা ৯৯ ভাগই রয়েছে মিসিং বা অজানা। তাদের এই গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে ন্যাচার জার্নালে। এতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে প্রায় সব রকম ক্যান্সারের পরিপূর্ণ একটি চিত্র।
এর ফলে প্রতিটি রোগির অনন্য বা ইউনিক টিউমার চিকিৎসার পথ করে দিতে পারে অথবা আগেভাগে ক্যান্সার সনাক্ত করার উপায় বলে দিতে পারে। ২৬৫৮ রকম ক্যান্সারের জেনেটিক কোডের পূর্ণাঙ্গ বিশেষণ করেছে দ্য প্যান ক্যান্সার এনালাইসিস অব হোল হিনোমস কনসোর্টিয়াম। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এতে আরো বলা হয়েছে, ক্যান্সার হলো আমাদের দেহের সুস্থ কোষগুলোর দূষিত সংস্করণ। তা আমাদের ডিএনএ’কে পরিবর্তন করে আমাদের কোষকে পাল্টে ফেলে। যতক্ষণ তা বৃদ্ধি না পায় এবং নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বিভক্ত হতে থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত এটা চলতেই থাকে। আমাদের দেহ গঠনের জন্য প্রোটিন গঠনের জেনেটিক কিছু সেটের গঠন থেকে আমরা এ প্রক্রিয়ার যতটুকু সম্ভব তার বেশির ভাগ জানতে পেরেছি। অন্টারিও ইন্সটিটিউট অর ক্যান্সার রিসার্চের ড. লিঙ্কন স্টেইন বলেছেন, পুরো জিনোমের শতকরা মাত্র এক ভাগ সেটা। যখন চিকিৎসকরা প্রায় এক তৃতীয়াংশ রোগিকে চিকিৎসা দেন তখন তারা থাকেন অন্ধকারে। বিশেষ করে কি কারণে রোগিদের কোষ ক্যান্সারাক্রান্ত হয়েছে এটা বলা তাদের কাছে অসম্ভব হয়ে ওঠে। এই গবেষণায় ৩৭ টি দেশের সদস্যদের নিয়ে গবেষণার একটি টিম গঠন করা হয়। মিসিং বা অজানা শতকরা ৯৯ ভাগ নিয়ে এক দশকের ওপর গবেষণা করেছেন এই টিমটি। তাদের এই গবেষণা বর্ণনা করতে প্রয়োজন হয়েছে বৈজ্ঞানিক ২২টি জার্নাল পেপার। এতে বলা হয়েছে ক্যান্সার হলো একটি অতি জটিল বিষয়। এতে হাজারো বিভিন্ন পরিবর্তনের ফলে তৈরি হয় ক্যান্সার। এই প্রকল্পে দেখা গেছে মানুষের ক্যান্সারে চার থেকে ৫টি মৌলিক পরিবর্তন থাকে। এ থেকে ক্যান্সারের উদ্ভব হয়। এগুলো হলো দুর্বল স্পট, যা চিকিৎসায় শোষণ করানো যেতে পারে, এ চিকিৎসায় এসব ‘ড্রাইভার মেইটেশনকে’ আক্রমণ করা যেতে পারে।
ওয়েলকাম স্যাঙ্গার ইন্সটিটিউটের ড. পিটার ক্যাম্পবেল বলেছেন, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমরা চিকিৎসা পদ্ধতি বের করতে চাইছি। যদিও শতকরা ৫ ভাগ ক্যান্সারের কোনো ‘ড্রাইভার মিউটেশন’ থাকে না। এখনও এ নিয়ে অনেক কাজ করতে হবে। বিজ্ঞানীরা ‘কার্বন ডেটিং’ মিউটেশনেরও একটি উপায় উদ্ভাবন করেছেন। এ থেকে দেখা যায় যে, এক পঞ্চমাংশের বেশির ক্যান্সার ধরা পড়তে বছরের পর বছর অথবা কয়েক দশকও লেগে যায়। ফ্রাঁসিস ক্রিক ইন্সটিটিউটের ড. পিটার ভ্যান লু বলেছেন, ক্যান্সারের ধরণ সম্পর্কে জেনেটিক মিউটেশনের প্রথম টাইমলাইন উদ্ভাবন করেছি আমরা। এই প্যাটার্ন অবমুক্ত করার মাধ্যমে ক্যান্সার পরীক্ষায় নতুন পথ বেরিয়ে আসতে পারে।