বাড়তি দামে খাবার কিনে বছর শুরু বিশ্ববাসীর

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ বিদায়ী বছরের শেষ মাসটিতে বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তির দিকে ছিল। চলতি বছরের জানুয়ারিতে এসেও কমেনি খাদ্যপণ্যের দাম। বরং গত মাসে বৈশ্বিক খাদ্যপণ্যের গড় মূল্যসূচক আগের মাসের তুলনায় ১ দশমিক ৩ পয়েন্ট বেড়েছে। ফলে বাড়তি দামে খাবার কেনার মধ্য দিয়ে বছর শুরু করতে হয়েছে বিশ্ববাসীকে। একই সঙ্গে টানা চার মাস খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক গড় মূল্যসূচক বাড়তির দিকে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) ফুড প্রাইস ইনডেক্সে (এফএফপিআই) এ তথ্য জানানো হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, চলতি বছরের প্রথম মাসে বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্য, ভোজ্যতেল, চিনি ও দুগ্ধপণ্যের দাম বেড়েছে। তবে এ সময় কমতির দিকে ছিল আমিষ পণ্যের দাম। খবর এফএও।
এফএও ফুড প্রাইস ইনডেক্সে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের জানুয়ারিতে খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক গড় মূল্যসূচক দাঁড়িয়েছে ১৮২ দশমিক ৫ পয়েন্টে, যা আগের মাসের তুলনায় ১ দশমিক ৩ পয়েন্ট বা দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সূচকমান ১১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। গত বছরের অক্টোবরের পর থেকে এ মূল্যসূচক টানা বাড়তির দিকে রয়েছে।
গত জানুয়ারিতে ভোজ্যতেলের বাজার তুলনামূলক বেশি চাঙ্গা ছিল। এ সময় ভোজ্যতেলের বৈশ্বিক গড় মূল্যসূচক দাঁড়িয়েছে ১৭৬ দশমিক ৩ পয়েন্টে, যা আগের মাসের তুলনায় ১১ দশমিক ৬ পয়েন্ট বেশি। গত ডিসেম্বরের তুলনায় জানুয়ারিতে এ সূচক ৭ শতাংশ বেড়ে তিন বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে টানা ছয় মাস পাম অয়েলের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বিদ্যমান রয়েছে। জানুয়ারিতে বাড়তি দামে বিক্রি হয়েছে সূর্যমুখী ও সয়াবিন তেল। ২০১৪ সালের মে মাসের পর আন্তর্জাতিক বাজারে সবচেয়ে বেশি দাম উঠেছে সরিষার তেলের। এসবের প্রভাব পড়েছে ভোজ্যতেলের মাসভিত্তিক মূল্যসূচকে।
গত মাসে খাদ্যশস্যের বৈশ্বিক গড় মূল্যসূচক দাঁড়িয়েছে ১৬৯ দশমিক ২ পয়েন্টে, যা আগের মাসের তুলনায় ৪ দশমিক ৮ পয়েন্ট বেশি। গত ডিসেম্বরের তুলনায় জানুয়ারিতে এ সূচক ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ২০১৮ সালের মে মাসের পর সর্বোচ্চে উঠেছে। এ সময় করোনাভাইরাসের প্রকোপ, ফ্রান্সে বন্দর শ্রমিকদের ধর্মঘটসহ নানা কারণে গম, সয়াবিন ও ভুট্টার সরবরাহ বিঘ্নিত হয়ে দাম বেড়েছে। উৎপাদনকারী দেশগুলোয় প্রতিকূল আবহাওয়া চালের বাজারে চাঙ্গা ভাবের জন্ম দিয়েছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে দাম বেড়েছে চিনির। এ সময় আগের মাসের তুলনায় ১০ দশমিক ৪ পয়েন্ট বেড়ে পণ্যটির বৈশ্বিক গড় মূল্যসূচক ২০০ দশমিক ৭ পয়েন্টে উঠেছে। গত ডিসেম্বরের তুলনায় জানুয়ারিতে চিনির এ মূল্যসূচক বেড়েছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। এর মধ্য দিয়ে সূচকমান ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের পর সর্বোচ্চে উঠেছে। টানা চার মাস আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়তির দিকে রয়েছে চিনির দাম। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি মৌসুম শেষে ব্রাজিলের বৃহত্তম চিনি উৎপাদনকারী মধ্য-দক্ষিণাঞ্চলে পণ্যটির উৎপাদন ৬৬ শতাংশ কমতে পারে। একই মৌসুমে ভারতে চিনি উৎপাদন কমতে পারে ১৭ শতাংশ। মেক্সিকোতে কমতে পারে এক-চতুর্থাংশ। উৎপাদন খাতে সম্ভাব্য মন্দাভাবের এ খবর আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।
এফএও জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে দুগ্ধপণ্যের বৈশ্বিক গড় মূল্যসূচক আগের মাসের তুলনায় ১ দশমিক ৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০০ দশমিক ৬ পয়েন্টে। এক মাসের ব্যবধানে এ সূচক দশমিক ৯ শতাংশ চাঙ্গা হয়েছে। একদিকে ওশেনিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলে তরল দুধের সীমিত উৎপাদন, অন্যদিকে দুগ্ধপণ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদা; এ দুয়ের জের ধরে জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক বাজারে মাখন, পনির, ননিবিহীন গুঁড়ো দুধের দাম বাড়তির দিকে ছিল।
খাদ্যশস্য, ভোজ্যতেল, চিনি, দুগ্ধপণ্যের দাম বাড়লেও গত মাসে ক্রেতাদের কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে আমিষ পণ্যের বাজার। এ সময় আমিষ পণ্যের বৈশ্বিক গড় মূল্যসূচক দাঁড়িয়েছে ১৮২ দশমিক ৫ পয়েন্টে, যা আগের মাসের তুলনায় ৭ দশমিক ৫ পয়েন্ট বা ৪ শতাংশ বেশি। এর মধ্য দিয়ে টানা ১১ মাস দুগ্ধপণ্যের বাজার চাঙ্গা রয়েছে। করোনাভাইরাসের প্রকোপ চীনে আমিষ পণ্যের চাহিদায় শ্লথতা তৈরি করেছে। এ পরিস্থিতিতে আমিষ পণ্যের বেচাকেনাও কমেছে। আগের তুলনায় কমে এসেছে দাম।