লোকসমাজ ডেস্ক ॥ওয়ানডে ক্রিকেটে এমন ঘটনা সচরাচর ঘটে না। একটি দলের দুই ওপেনারেরই অভিষেক হলো আজ। হ্যামিল্টনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পৃথ্বী শ আর মায়াঙ্ক আগারওয়ালকে ব্যাট করতে দেখে স্মৃতিকাতর সুনীল গাভাস্কার। ভারতের কিংবদন্তি ওপেনার অবশ্য অভিষেক ওয়ানডে নিয়ে রসিকতা করতেও ছাড়েননি। টেস্টের মতো প্রথম ওয়ানডেতেও মুখোমুখি হয় অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড, মেলবোর্নে ১৯৭১ সালের ৫ জানুয়ারি। ভারতকে প্রথম ওয়ানডের জন্য অপেক্ষায় থাকতে হয়েছিল সাড়ে তিন বছর। ১৯৭৪ সালের ১৩ জুলাই ভারতের অভিষেক ওয়ানডের প্রতিপক্ষ ছিল ইংল্যান্ড।
হেডিংলির সেই ম্যাচে সুধীর নায়েককে নিয়ে ওপেন করতে নামেন গাভাস্কার। দুই মুম্বাই ব্যাটসম্যানের উদ্বোধনী জুটিতে ওঠে ৪৪ রান। নায়েক ১৮ রানে ফেরার পর গাভাস্কার বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি, আউট হয়ে যান ২৮ রানে। ব্রিজেশ প্যাটেলের ৮২ ও অধিনায়ক অজিত ওয়াদেকারের ৬৭ রানের সুবাদে অলআউট হওয়ার আগে ভারত করেছিল ২৬৫ রান। ৫৫ ওভারের ম্যাচটি ইংল্যান্ড জিতেছিল ৪ উইকেটে, ২৩ বল হাতে রেখে। ৯০ রান করে স্বাগতিকদের জয়ের নায়ক জন এডরিচ। স্টার স্পোর্টসের হয়ে ধারাভাষ্য দেওয়ার সময় গাভাস্কার ফিরে গেলেন সেই দিনগুলোতে। জানালেন তখনকার ওয়ানডে ছিল একেবারেই অন্যরকম। লাল বল যে বেশি সুইং করতো, বললেন সে কথাও। সাদা পোশাক আর লাল বলের ওয়ানডে অবশ্য অনেক দিনই অদৃশ্য।
একজনের প্রশ্ন, প্রথম ওয়ানডেতে ভারতের কী পরিকল্পনা ছিল? গাভাস্কারের স্বভাবসুলভ জবাব, ‘কীসের পরিকল্পনা?’ উত্তর শুনে ভিভিএস লক্ষ্মণ আর দীপ দাসগুপ্ত হেসেই অস্থির। গাভাস্কারের ভাষ্য, সত্তরের দশকে নাকি টেস্ট ক্রিকেটে পরিকল্পনা করে নামলেও ওয়ানডেতে একেবারে নির্ভার হয়ে নামতো ভারতীয় ক্রিকেটাররা। আশির দশকে ওয়ানডেতে পরিকল্পনা নিয়ে নেমেই সাফল্য পেয়ে যান কপিল-গাভাস্কাররা। ১৯৮৩ বিশ্বকাপে কপিল দেবের নেতৃত্বে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দুই বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় বেনসন অ্যান্ড হেজেস কাপেও শিরোপা জিতেছিল ভারত। ‘মিনি বিশ্বকাপ’ নামে পরিচিত সেই টুর্নামেন্টে অধিনায়ক ছিলেন গাভাস্কার।





