বৈশ্বিক পণ্যবাজারে করোনাভাইরাসের আঘাত

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ চীনা করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে পুরো বিশ্ব। চীন ছাড়িয়ে এরই মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী এ ভাইরাস। এখন পর্যন্ত চীনে মারা গেছে ৩৬১ জন। ফিলিপাইন ও হংকংয়ে মারা গেছে একজন করে। আক্রান্তের সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়েছে। বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। করোনাভাইরাসের প্রভাব পড়েছে জ্বালানি ও পণ্যবাজারেও। ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে ক্রমে নিম্নমুখী হতে শুরু করেছে বৈশ্বিক পণ্যবাজার। কমেছে জ্বালানি, ধাতব পণ্য, ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন পণ্যের চাহিদা ও দাম। বৈশ্বিক পণ্যবাজারে করোনাভাইরাসের প্রভাব নিয়ে এ আয়োজন—
ওপেক প্লাস জ্বালানি তেলের উত্তোলন আরো কমাচ্ছে: পণ্যবাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, করোনাভাইরাসের প্রভাবে বিশ্বের শীর্ষ জ্বালানি তেল ভোক্তা দেশ চীনে পণ্যটির চাহিদা ব্যাপক হারে কমতে পারে। ফলে নিম্নমুখী হয়ে পড়তে পারে পণ্যটির বৈশ্বিক চাহিদা। এ আশঙ্কা থেকে অর্গানাইজেশন অব দ্য পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজ জোট ওপেক ও এর সহযোগী সংস্থা ওপেক প্লাস পণ্যটির উত্তোলন আরো কমিয়ে আনতে পারে। আগামী মার্চে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে জোটটি পণ্যটির উত্তোলন দৈনিক গড়ে আরো ৫ লাখ ব্যারেল কমিয়ে আনতে পারে। ফলে ওপেকভুক্ত দেশগুলোর জ্বালানি তেল উত্তোলন কমে দৈনিক গড়ে ২২ লাখ ব্যারেলে গিয়ে ঠেকতে পারে।
জোটটির সদস্য দেশ ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ওপেকের প্রতি কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।
জ্বালানি তেলের পরিশোধন কমিয়েছে চীন: চীন বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ জ্বালানি তেল পরিশোধনকারী দেশ। ফলে দেশটির যেকোনো ধরনের অর্থনৈতিক পরিবর্তন খাতসংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানে বিস্তর প্রভাব ফেলে। বিশ্লেষকরা বলছেন, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) দেশটিতে জ্বালানি তেলের চাহিদা দৈনিক গড়ে ২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল কমে যেতে পারে। দেশটিতে পণ্যটির চাহিদা কমে আসার প্রভাব পড়বে পণ্যটির পরিশোধন কার্যক্রমে। চীনের সিনোপেক করপোরেশন এশিয়ার বৃহত্তম জ্বালানি তেল পরিশোধন কেন্দ্র। কোম্পানিটি চলতি মাসে জ্বালানি তেলের পরিশোধন দৈনিক গড়ে ৬ লাখ ব্যারেল কমিয়ে আনতে পারে, যা আগের মাসের তুলনায় ১২ শতাংশ কম এবং গত এক দশকের সর্বনিম্ন। কোম্পানিটি পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলো থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি স্থগিত করে দিয়েছে। এছাড়া প্রাক-ক্রয়াদেশের কমপক্ষে পাঁচটি কার্গো পুনর্বিক্রির চেষ্টা করছে।
জেট ফুয়েলের দরপতন: জ্বালানি তেল পরিশোধন ও রফতানি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গত জানুয়ারিতে এশিয়ার বাজারে জেট ফুয়েলে (উড়োজাহাজের জ্বালানি) মাসভিত্তির দাম ও উৎপাদনে বড় ধরনের মন্দা দেখা গেছে। এ সময় পণ্যটির দাম ও উৎপাদন কমে এক দশকের সর্বনিম্নে ঠেকেছে। এছাড়া এক ডজনের বেশি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন এরই মধ্যে চীনের সঙ্গে সম্পূর্ণ বা আংশিক ফ্লাইট বাতিল করেছে, যা এশিয়ায় জেট ফুয়েলের বাজার আরো সংকুচিত করে এনেছে।
দরপতনে পাম অয়েল ও ধাতুর বাজার: চীন বিশ্বের শীর্ষ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিকারক দেশ। দেশটিতে চাহিদা কমায় আন্তর্জাতিক বাজারে টানা কমতির দিকে রয়েছে পণ্যটির দাম। গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্যটির দাম কমে গত ১৩ মাসের সর্বনিম্নে নেমেছে। এদিকে সম্প্রতি এশিয়ার বাজারে এলএনজির দাম কমে ১০ বছরের সর্বনিম্নে নেমে যায়।
বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে পাম অয়েলের বাজারে। খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা বলছেন, করোনাভাইরাস পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ভোজ্যপণ্যটির দাম কমে টনপ্রতি আড়াই হাজার রিঙ্গিতে (মালয়েশিয়ান মুদ্রা) নামতে পারে।
দরপতনে বাদ যায়নি ব্যবহারিক ধাতুর বাজারও। লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে (এলএমই) গত মাসে অ্যালুমিনিয়াম, তামা, নিকেল, আকরিক লোহাসহ প্রায় প্রতিটি ধাতব পণ্যের বাজার নিম্নমুখী থাকতে দেখা গেছে। গত সোমবার চীনের বাজারে তামার দাম কমে তিন বছরের সর্বনিম্নে নেমেছে। ব্লুমবার্গ ও রয়টার্স অবলম্বনে