লোহাগড়া (নড়াইল) সংবাদদাতা ॥ স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের প্রতিবাদ করায় মাহমুদা সুলতানা পলি (২৭) নামে এক গৃহবধূ শাশুড়ি ও ননদের মারপিটের শিকার হয়েছেন। স্বামীর নির্দেশে তাকে মারপিট করা হয়েছে বলে অভিযোগ। মারাত্মক আহত ওই গৃহবধূ লোহাগড়া হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার দোয়ামল্লিকপুর গ্রামে। গৃহবধূর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, লোহাগড়ার দোয়ামল্লিকপুর গ্রামের ইদ্রিস মোল্লার ছেলে শাহরিয়ার ছরোয়ার সুমনের সাথে গোপীনাথপুর গ্রামের আবু সাইদ মোল্লার মেয়ে মাহমুদা সুলতানা পলির ২০১১ সালে বিয়ে হয়। নির্যাতিত ওই গৃহবধূ অভিযোগ করে বলেন, ’বিয়ের কিছুদিন পরে যৌতুকলোভী স্বামী চাকরির কথা বলে আমার পিতার কাছ থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা নেয়। এরপরে মোটরসাইকেল কেনার জন্য ১ লাখ টাকা এবং চাকরির জন্য আরো ৫০ হাজার টাকা নেয়’।
গত ৬ বছর যাবত স্বামী-স্ত্রী দু জনে ঢাকায় বেসরকারি কম্পান্নিতে চাকরির সুবাদে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন। লোহাগড়ায় হঠাৎ এসে গত ৩১ জানুয়ারি শাহরিয়ার ছরোয়ার সুমন চরমল্লিকপুর এলাকায় টুম্পা নামে এক মেয়েকে বিয়ে করেন। স্বামী আবার বিয়ে করেছেন এ খবর পেয়ে গত ১ ফেব্রুয়ারি মাহমুদা সুলতানা পলি ঢাকা থেকে বাপের বাড়িতে চলে আসেন। ২ ফেব্রুয়ারি দোয়ামল্লিকপুর গ্রামে শ^শুর বাড়িতে গিয়ে স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে কথা বলায় শ^শুরের উপস্থিতিতে শাশুড়ি পেয়ারা বেগম ও ননদ সীমা লাঠি ও লোহার রড দিয়ে গৃহবধূকে বেদম পেটান এবং রান্না করা বঠি দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেন। স্থানীয় লোকজন মাহামুদার চিৎকারে ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে লোহাগড়া হাসপাতালে এনে ভর্তি করেন। অভিযুক্ত শাহরিয়ার ছরোয়ার সুমনের মোবাইলে কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে ফোন বন্ধ করে দেন। সুমনের পরিবারের কারো সাথেই যোগাযোগের চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি। লোহাগড়া থানার ওসি মো. আলমগীর হোসেন বলেন, এ বিষয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।





