গম উৎপাদনে নতুন রেকর্ডের পথে ভারত

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ প্রতি বছরের জুলাই থেকে ভারতে গম উৎপাদন বর্ষ শুরু হয়। চলে পরের বছরের জুন পর্যন্ত। ২০১৯-২০ উৎপাদন বর্ষে কৃষিপণ্যটি উৎপাদনে নয়া রেকর্ড করতে যাচ্ছে দেশটি। সরকারের ন্যূনতম সহায়তা মূল্য বৃদ্ধিতে দেশটির কৃষকরা গম আবাদে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। এছাড়া অনুকূল আবহাওয়ার জেরে শস্যটির ফলনে চাঙ্গা ভাব বজায় রয়েছে। সব মিলিয়ে চলতি উৎপাদন বর্ষে ইতিহাসের সর্বোচ্চ গম উৎপাদন হতে পারে ভারতে। খবর বিজনেস লাইন ও ইকোনমিক টাইমস।
ভারতের সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত একটি জরিপে সম্প্রতি এমন তথ্য উঠে এসেছে। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব এগ্রিকালচারাল রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, চলতি উৎপাদন বর্ষে দেশটিতে সব মিলিয়ে ১০ কোটি ৫০ লাখ টন গম উৎপাদন হতে পারে, আগের বছরের তুলনায় যা ৬ শতাংশ বেশি। প্রতিষ্ঠানটির এ তথ্য সত্যি হলে তা হবে দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ গম উৎপাদনের রেকর্ড। একই সঙ্গে তা এক দশক আগের উৎপাদনের তুলনায় এক-চতুর্থাংশ বেশি। ২০১০-১১ উৎপাদন বর্ষে দেশটিতে সব মিলিয়ে ৮ কোটি ৬৯ লাখ টন গম উৎপাদন হয়েছিল।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান জ্ঞানেন্দ্র প্রতাপ সিং জানান, মৌসুমি বৃষ্টি গম উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত সহায়ক। গমের চলতি উৎপাদন বর্ষে ভারতে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা পণ্যটির ফলন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে তুলবে বলে প্রত্যাশা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। এছাড়া গমে সরকারের ন্যূনতম সহায়তা মূল্য বৃদ্ধির জেরে দেশটির কৃষকরা এবার পণ্যটি আবাদে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
বিদায়ী বছরের অক্টোবরে ভারত সরকার গমের ন্যূনতম সহায়তা মূল্য ৮৫ রুপি বাড়িয়ে কুইন্টালপ্রতি (১০০ কেজিতে ১ কুইন্টাল) ১ হাজার ৯২৫ রুপি ধার্য করে। এ ঘোষণার পর চলতি উৎপাদন বর্ষে দেশটিতে পণ্যটির আবাদ ব্যাপক হারে বেড়েছে। এবার দেশটিতে গমের আবাদি জমির পরিমাণ আগের বর্ষের তুলনায় ২৬ দশমিক ২৭ শতাংশ বেড়ে ২ কোটি ৯৭ লাখ হেক্টরে উন্নীত হয়েছে। আগের উৎপাদন বর্ষে দেশটির মোট ২ কোটি ৬২ লাখ ৭০ হাজার হেক্টর জমিতে পণ্যটির আবাদ হয়েছিল। সে হিসাবে সরকারি প্রণোদনার জেরে এক বছরের ব্যবধানে দেশটিতে গমের আবাদি জমির পরিমাণ বেড়েছে ৩৪ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর।
কৃষিবিজ্ঞানী জ্ঞানেন্দ্র প্রতাপ সিং জানান, এ নিয়ে টানা চার বছর ভারতের গম উৎপাদনে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। এবার দেশটির মধ্য প্রদেশ, রাজস্থান, গুজরাট ও উত্তর প্রদেশে সবচেয়ে বেশি গম উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। চার-পাঁচ বছরের মধ্যে এবারই এসব অঞ্চলে পণ্যটি উৎপাদনের সর্বোত্তম আবহাওয়া বিরাজ করছে। এরই মধ্যে দেশটির ৯০ শতাংশ গমের বপন কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে বাড়তি উৎপাদনে প্রভাব পড়তে পারে গমের বাজারে। ভারতের একজন ব্যবসায়ী জানান, পণ্যটির উৎপাদন বৃদ্ধির পূর্বাভাসে এরই মধ্যে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাজারে। চলতি মাসে পণ্যটির স্পটমূল্য আগের মাসের তুলনায় ৭ শতাংশ কমে কুইন্টালপ্রতি ২ হাজার ১৬৬ রুপিতে নেমেছে। এ পরিস্থিতিতে পণ্যটির রেকর্ড উৎপাদন মানে বছরের মাঝামাঝিতে দাম আরো কমে কুইন্টালপ্রতি ১ হাজার ৯০০ রুপিতে নেমে যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।