মাসুদ রানা বাবু ॥ সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে যখন কঠোর অবস্থান নিয়েছে ঠিক তখনই দুর্নীতিতে নিমজ্জিত যশার গণপূর্ত সার্কেলের প্রধান সহকারী আব্দুস সোহবান। দুর্নীতির পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে রয়েছে নারী কেলেংকারীর অভিযোগ। যশোর গণপূর্ত অফিস সূত্রে জানা যায়, পাবনা জেলার বাসিন্দা আব্দুস সোহবান ২০১৬ সালে প্রধান সহকারী হিসেবে এই অফিসে যোগদান করেন। এরপর থেকে তিনি আর্থিক ও নারী কেলেঙ্কারীর সাথে জড়িয়ে পড়েন। যশোর গণপূর্ত সার্কেলের অধিনে রয়েছে যশোর নড়াইল, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও মাগুরা গণপূর্ত বিভাগ। অভিযোগ রয়েছে এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে কেউ বদলি হলে তাকে টাকা দিতে হয়। বদলির বিষয়টি তার হাতে না থাকলেও তিনি সুকৌশলে তাদের জিম্মি করে এমনকি বড় কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে আর্থিক সুবিধা আদায় করেন। বদলি সুপারিশ করেও তিনি অনেকের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিয়ে থাকেন। এ সব অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগীরা আরও জানান, এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগ বদলি হওয়ার সাথে সাথে তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে টাকা দাবি করেন। এক্ষেত্রে তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর নাম ব্যবহার করেন বলেন, আপনি নতুন অফিসে এসেছেন। এ জন্যে স্যার আপনার কাছে টাকা চেয়েছেন। টাকা না দিলে অন্যত্র স্থানান্তর করা হবে। এভাবে জিম্মি করে তিনি টাকা আদায় করেন। বদলির ক্যাটাগরি অনুযায়ী তার ঘুষের রেট ১০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত। অনেকে চাকরি ও হয়রানির কথা বিবেচনা করে টাকা দিতে বাধ্য হন। একজন ভুক্তভোগী জানান, এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে বদলি হওয়ার সাথে সাথে তাকে জিম্মি করে ১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়। এভাবে বিভিন্ন অংকের ঘুষ নেয়ার অভিযোগ করেছেন আরও অনেকে।
অভিযোগ রয়েছে আব্দুস সোহবান যশোর গণপূর্ত সার্কেলে যোগদানের পর অফিসের এক নারী সহকর্মীর সাথে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। ওই সহকর্মী তখন শহরের মিশনপাড়ায় জনৈক রফিকুল ইসলামের বাড়িতে ভাড়া থাকতো। তিনি প্রথমে বাড়ি মালিককে বলতেন, আমি কম্পিউটার শিখছি। আব্দুস সোহবান নামের একজন এসে আমাকে কম্পিউটার শিখিয়ে দিতে যাবেন। এই কথা বলে আব্দুস সোহবানকে ওই বাড়িতে যাওয়া আসা করার সুযোগ করে দেয়া হয়। এভাবে দীর্ঘদিন চলার পর তারা বাড়ির মালিককে জানান, আমরা বিয়ে করেছি। এই কথা বলে তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ওই বাড়িতে বসবাস করতে থাকেন। কিছুদিন অতিবাতি হওয়ার পর বাড়ির মালিকের মনে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। তিনি তাদের কাছে বিয়ের কাগজপত্র চাইলে তারা দেখাতে পারেননি। অবশেষে তাদেরকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাড়ি মালিক বলেন, আমি যখন জানতে পারলাম তারা স্বামী-স্ত্রী নন, তখন আমি তাদেরকে বাড়ি থেকে বের করে দেই। বর্তমানে তারা কোন জায়গায় আছ বলতে পারবো না। অভিযুক্ত আব্দুস সোবহান তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত আর্থিক ও নারী কেলেংকারীর অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, এসব ষড়যন্ত্র। একটি কুচক্রিমহল আমার বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা কথা বার্তা বলে বেড়াচ্ছে। এ বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মানিক লাল দাসের প্রতিক্রিয়া জানতে গেলে এই প্রতিবেদকের সাথে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।





