প্রবেশ পত্র না দিয়ে সুপারের আত্মগোপন : ২২ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা অনিশ্চিত

মোংলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা ॥ বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার চৌরিডাঙ্গা আহমাদিয়া দাখিল মাদ্রাসার ২২ শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ অনিশ্চত হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা কেন্দ্রের প্রবেশ পত্র না দিয়ে মাদ্রাসা সুপার আত্মগোপন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন ক্ষুব্ধ অভিভাবকসহ মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষা বোর্ড হতে পরীক্ষার প্রবেশ পত্র সংগ্রহে মাদ্রাসা সুপারের অবহেলা ও খামখোয়ালিপনার অভিযোগ করেন তারা। আর এ বিষয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে মাদ্রসা সুপার মাওলানা জালাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। মাদ্রাসার সহকারী সুপার আব্দুল হালিম লিখিত জানান, ৩ ফেব্র“য়ারি অনুষ্ঠেয় দাখিল পরীক্ষার্থীদের প্রবেশ পত্র এক সপ্তাহ আগে দেয়ার কথা থাকলেও এখনো পর্যন্ত তা দেয়া হয়নি। এতে পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। অপরদিকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের চাপের মুখে আত্মগোপন করেছেন মাদ্রসা সুপার মাওলানা জালাল উদ্দিন। এ মাদ্রাসা হতে চলতি বছর ২২ শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়ার কথা। কিন্তু তাদের কেউ এখন পর্যন্ত প্রবেশ পত্র পাননি। আজ সোমবার শুরু হচ্ছে এসএসসি / দাখিল ও সমমানের পরীক্ষা। এ অবস্থায় দারুণ হতাশার মধ্যে পড়েছে পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা।
ওই মাদ্রাসার পরীক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তারের বাবা শওকাত শেখ মেয়ের শিক্ষা জীবনের অনিশ্চয়তা নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন-দুনীর্তিবাজ মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে তিনি আদালতে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এদিকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান-পরীক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন থেকে শুরু করে ফরম পূরণ ও প্রবেশ পত্র সংগ্রহের নামে কয়েক দফায় হাজার হাজার টাকা নিয়েছেন মাদ্রাসা সুপার। এ ছাড়া ভিন্ন কৌশলে পরীক্ষাথী ও তাদের অভিভাবকদের কাছ থেকে নগদ টাকাও হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে। পরীক্ষার্থী মুজাহিদ হাওলাদার জানায়, মাদ্রাসা সুপার ইচ্ছেকৃতভাবে তার বাবার নাম রেজিস্ট্রেশনে ভুল লিখে শিক্ষা বোর্ডে পাঠান। পরে ভুল নামের সংশোধন ও সঠিক করতে তার কাছ থেকে ৩ হাজার ৫শ টাকা নেয়া হয়। একই ভাবে আয়শা আক্তার নামের অপর এক শিক্ষার্থীর কাছে থেকে ২ হাজার ৫শ টাকা আদায় করেন মাদ্রাসা সুপার মাওলানা জালাল উদ্দিন।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম জানান,পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র ইস্যুতে গত ৩০ জানুয়ারি মাদ্রাসায় জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সুপার মাওলানা জালাল উদ্দিন সভায় উপস্থিত হননি। এই পরিস্থিতিতে সুপার আত্মগোপন করেছেন বলেও জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, মাদ্রাসার জমি দখল,বিক্রি এবং অন্যত্র ইজারা প্রদানসহ নানা কৌশলে মাদ্রাসার লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে সুপার মাওলানা জালাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে। উত্থাপিত এ সকল অভিযোগের ভিত্তিতে ম্যানেজিং কমিটির সভায় আইনগত ব্যবস্থ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ বিষয় মাদ্রাসা সুপারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

ভাগ