২০২০ সালে ভারতে স্বর্ণের ব্যবহার বাড়তে পারে

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ বিদায়ী বছরে ভারতে স্বর্ণের চাহিদা কমে তিন বছরের সর্বনিম্নে ঠেকেছে। ধাতবপণ্যটির রেকর্ড দাম বৃদ্ধি ও দেশটির অর্থনৈতিক শ্লথগতি এর পেছনে প্রধান প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। তবে চলতি বছরে পরিস্থিতি ঘুরে দাঁড়াতে পারে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে ভোক্তাদের আস্থা ফেরাতে চাইছে দেশটির সরকার। ফলে এ বছর দেশটিতে মূল্যবান ধাতুটির চাহিদা ফের চাঙ্গা হয়ে উঠতে পারে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের (ডব্লিউজিসি) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর রয়টার্স ও টাইমস অব ইন্ডিয়া।
ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ স্বর্ণ ক্রেতা দেশ। বৈশ্বিক বাজার অর্থনীতির অনিশ্চয়তায় গত বছর মূল্যবান ধাতুটির দাম রেকর্ড বেড়ে যায়। এদিকে চলতি বছরের শুরুর দিকে মূল্যবান ধাতুটির দাম আরো বেড়ে সাত বছরের সর্বোচ্চের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। এ পরিস্থিতি ভারতে স্বর্ণের চাহিদা বাড়লে পণ্যটির দাম আরো বেড়ে যেতে পারে বলে ডব্লিউজিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ফলে দেশটিতে বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধি পেতে পারে ও স্থানীয় মুদ্রা চাপের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন পণ্যবাজার বিশ্লেষকরা।
ডব্লিউজিসির ভারতবিষয়ক ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্যামসুন্দরম পিআর জানান, চলতি বছরে ভারতে স্বর্ণের ব্যবহার বেড়ে ৭০০-৮০০ টনে উন্নীত হতে পারে। বিদায়ী বছরে দেশটিতে সব মিলিয়ে ৬৯০ দশমিক ৪ টন স্বর্ণ
ব্যবহার হয়েছিল। তবে দেশটির সরকার কর্তৃক বুলিয়ন বাণিজ্যে স্বচ্ছতা আনার পদক্ষেপের জেরে পণ্যটির ব্যবহার গত ১০ বছরের গড় ছাড়িয়ে যেতে পারবে না। গত ১০ বছরে ভারতীয়দের বাষিক স্বর্ণ ব্যবহারের গড় ৮৪৩ টন।
তিনি বলেন, আসছে বাজেটে যে সংস্কারগুলো ঘোষিত চলেছে তাতে ভারতীয়দের হাতে আরো বেশি অর্থের জোগান থাকতে পারে, যা দেশটির চাহিদা প্রবৃদ্ধি বাড়িয়ে তুলবে। সামগ্রিকভাবে দেশটির অর্থনীতি চাঙ্গা হয়ে উঠলে জুয়েলারি বাণিজ্যেও এর প্রভাব পড়বে।
ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ আজ পার্লামেন্টে বাজেট উপস্থাপন করবেন। তিনি জানান, ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে ভারতীয়দের কিছু ব্যক্তিগত কর ব্যাপকভাবে ছাঁটাই করা হতে পারে, যা দেশটির ভোক্তাদের চাহিদা ও বিনিয়োগ বাড়িয়ে তুলতে সহায়তা করবে।
ডব্লিউজিসির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিদায়ী বছরে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে স্বর্ণের দাম আগের বছরের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড করে। অতিরিক্ত দামের কারণে পণ্যটি ভোক্তাদের ক্রয়সীমার ওপরে উঠে যায়। এতে গত বছর দেশটিতে মূল্যবান ধাতুটির ব্যবহার কমে ৬৯০ দশমিক ৪ টনে নেমে যায়, যা আগের বছরের তুলনায় ৯ শতাংশ কম ও ২০১৬ সালের পর সর্বনিম্ন।
ভারতে সাধারণত ডিসেম্বর প্রান্তিকে সবচেয়ে বেশি স্বর্ণ বিক্রি হয়। দেওয়ালিসহ বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও বিয়ের মৌসুমের কারণে এ সময়ে দেশটিতে পণ্যটির চাহিদা বছরের অন্য সময়ের তুলনায় বেশি থাকে। তবে গত বছরের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) দেশটিতে পণ্যটির ক্রয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ শতাংশ কমে ১৯৪ দশমিক ৩ টনে নেমে যায়, যা ডিসেম্বর প্রান্তিকে দেশটির বাজারে পণ্যটির আট বছরের সর্বনিম্ন ক্রয়ের রেকর্ড।
ভারতের মোট স্বর্ণ চাহিদার প্রায় পুরোটাই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। ফলে চাহিদা হ্রাস পাওয়ায় বিদায়ী বছরে দেশটিতে পণ্যটির আমদানিতে নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় ছিল। ডব্লিউজিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে আগের বছরের তুলনায় ১৪ শতাংশ কমে দেশটি মোট ৬৪৬ দশমিক ৮ টন স্বর্ণ আমদানি করেছে। ২০১৮ সালে পণ্যটি আমদানির পরিমাণ ছিল ৭৫৫ দশমিক ৭ টন।