কলারোয়ায় অভিযোগ তদন্তে স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক

0

কলারোয়া (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা ॥ সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করলেন ভাইস চেয়ারম্যান ও ১১ জন ইউপি চেয়ারম্যান। খুলনার স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক ও অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার হোসেন আলী খোন্দকার অভিযোগের তদন্তে কলারোয়া আসলে লিখিত বক্তব্যে নিজেদের দেয়া অভিযোগ অস্বীকার করেন তারা। বৃহস্পতিবার দিনভর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিস কক্ষে তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযোগকারীদের বক্তব্য শোনেন ও তদন্ত সম্পন্ন করেন। জানা গেছে, গত ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর ওই উপজেলা চেয়ারম্যান লাল্টুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ এনে স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বরাবর লিখিত আবেদন করেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কাজী আসাদুজ্জামান শাহাজাদা ও ১১টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। এরই প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার তদন্তে আসেন স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক হোসেন আলী খোন্দকার।
তবে তদন্ত শুরু হওয়ার আগেই অভিযোগকারী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কাজী আসাদুজ্জামান শাহাজাদা এবং দেয়াড়া ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান মফে, চন্দনপুর ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম মনি, জালালাবাদ ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, লাঙ্গলঝাঁড়া ইউপি চেয়ারম্যান প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম, কেঁড়াগাছি ইউপি চেয়ারম্যান এস.এম আফজাল হোসেন হাবিল, যুগিখালী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল হাসান ও কয়লা ইউপি চেয়ারম্যান শেখ ইমরান হোসেন তাদের আনীত অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক বলে তদন্তকারী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত বক্তব্য উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে জমা দেন। লিখিত বক্তব্যে জানা যায়, অভিযোগের বিষয়ে তারা কিছুই অবগত নন। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফিরোজ আহম্মেদ স্বপন তাদেরকে একটি কাগজ হাতে দিয়ে সিল-সই করে দিতে বলেন। দলীয় সভাপতি হিসেবে আমরা সরল বিশ্বাসে তার কাগজে সিল-সই করে দেই। তবে অভিযোগের বিষয়ে আমরা আদৌ কিছু জানি না এবং অভিযোগটি পাঠ করে যা জানতে পারলাম তা আদৌ সত্য নয়।
এদিকে, লিখিত অস্বীকারপত্র না দিলেও মোবাইল ফোনে সোনাবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান এস.এম মনিরুল ইসলাম, কেরালকাতা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ সরদার, জয়নগর ইউপি চেয়ারম্যান সামছুদ্দিন আল মাসুদ বাবু মোবাইল ফোনে উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে বিষয়টি সত্য নয় বলে জানান। যার অডিও রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে। এ বিষয়ে ৬ নম্বর সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস.এম মনিরুল ইসলামের কাছে তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘দলীয় কোন্দলে এসব অভিযোগ দেয়া হয়েছিল। বিষয়টি সঠিক নয় বলে তিনি তদন্তকারী কর্মকর্তাকে বলেছেন।’ উপজেলা পরিষদের চেয়াম্যান আমিনুল ইসলাম লাল্টু বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমার বিরুদ্ধে প্রকল্পের চাঁদা নেয়ার বিষয়ে যে অভিযোগ করা হয়েছে সেটাও ভিত্তিহীন, কারণ আমি দায়িত্ব নেয়ার পর কোন প্রকল্পের কাজ হয়নি। আমি তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে চ্যালেঞ্জ দিয়ে জানিয়েছে আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ একটিও সত্য প্রমাণিত হবে না।’ এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা হোসেন আলী খোন্দকার জানান, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে আমাকে তদন্তে পাঠিয়েছেন। আমি বিষয়টি বাদী ও বিবাদীর কাছে আলাদাভাবে সব শুনেছি। এ মুহূর্তে এটা মিডিয়ার সামনে প্রকাশ করা যাবে না। আরো কিছু শোনা এবং বোঝার আছে। এরপর আমি একটি প্রতিবেদন দাখিল করবো।’