নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের মাধ্যমে জয় চায় আওয়ামী লীগ: আমীর খসরু

0

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ নিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগ ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জয় পেতে চায় বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, নির্বাচনে এখন পর্যন্ত যে সহিংসতা ও আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়েছে তা ছোটখাটো নয়, গুরুতর এসব লঙ্ঘনের কথা বারবার বলেছি, কিন্তু সমাধান হয়নি। বরং আরও বেশি লঙ্ঘন হয়েছে। সোহরাওয়ার্দীতে (সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে) আওয়ামী লীগের অনুষ্ঠান হচ্ছে। এটা নির্বাচনের আচরণবিধি সরাসরি লঙ্ঘন। নির্বাচনের দুদিন আগে এটা করা যায় না। অথচ নির্বাচন কমিশন বলছে তারা কিছু জানেন না। আমরা মনে করি তারা ওয়াচডগ হিসাবে সব পর্যবেক্ষণ করবেন। কিন্তু, দুঃখজনক হচ্ছে সরকারি দল সমাবেশ করছে এটা তারা জানেনই না, এটা আমাদের তাদের কাছে বলতে হয়! সমাবেশে দক্ষিণের প্রার্থীর (ফজলে নূর তাপস) ব্যানার পোস্টার সিম্বল নিয়ে লোকজন যাচ্ছে। এটা ক্লিয়ারলি ভায়োলেশন, আচরণবিধির লঙ্ঘন। বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনে (ইসি) কমিশনারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে বিএনপির প্রতিনিধি দল প্রধান হিসেবে এসব অভিযোগ সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন তিনি।
আমীর খসরু বলেন, ফুটপাতের ওপরে থাকা আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের ক্যাম্পের বিষয়ে আমরা বলেছিলাম। তারা বলেছিল ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভাঙা হবে। এখন পর্যন্ত কোনও অফিস ভেঙেছে বলে আমার জানা নেই। সব অফিস এখনও আছে, রিটার্নিং অফিসার দুঃখ প্রকাশ করেছেন তারা এক্সিকিউট করতে পারছেন না। তাদের প্রার্থীদের পোস্টারের মাপের ক্ষেত্রেও নিয়ম মানা হয়নি, সেগুলোও নামানোর কথা, কিন্তু তা হয়নি। কোনও পরিবর্তন হয়নি। তিনি বলেন, নির্বাচন পর্যন্ত দৃশ্যমান অপরাধ না হলে গ্রেফতার হবে না বলে জানানো হয়েছিল, কিন্তু, গ্রেফতার চলছে। বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে হয়রানি শুরু হয়ে গেছে। গ্রেফতারও হচ্ছে নতুনভাবে। আমাদের প্রার্থীদের ওপর হামলার বিষয়ে তারা নাকি কিছু পায়নি। নির্বাচনের যে পরিবেশের কথা বলে আসছি, আওয়ামী লীগের দক্ষিণের প্রার্থীর ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে একজন এমপি, সিনিয়র নেতা সেখানে বসে ছিলেন; এটা ক্লিয়ারলি ভায়োলেশন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বসে একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেছেন কেন্দ্রের ভেতরে বাইরে আশেপাশে দখলের জন্য। আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি নাকি বলেছেন বিএনপি বাইরে থেকে লোক এনে কেন্দ্র দখল করবে। দেশের একটি মানুষও কি তা বিশ্বাস করবে? তিনি নিজে কি বিশ্বাস করবেন? এটি বলার পেছনে কারণ রয়েছে। ২০১৪ সালে নিজেরা একটা নির্বাচন করেছেন, তখনও নিজেরাই কেন্দ্র দখল করেছেন। ২০১৮-তেও তারা কেন্দ্র দখল করেছেন, বিভিন্ন মেয়র নির্বাচনে এবং চট্টগ্রাম উপনির্বাচনেও তাদের দখল জাতি দেখেছে। এগুলো তারা প্রতিনিয়ত করছেন, তাই তাদের মনে এটি কাজ করে। তিনি শুধু আওয়ামী লীগের জায়গায় বিএনপি বলে ফেলেছেন। বাংলাদেশের কোনও মানুষ কি তা বিশ্বাস করবে?
ভোটের পরিস্থিতি ইসির নিয়ন্ত্রণে আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন সৃষ্টি হয়েছে দেশের নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত ও সুরক্ষার জন্য। ভোট সুরক্ষার দায়িত্ব তাদের। কিন্তু, এখন তারা হয়ে গেছে আওয়ামী লীগের ভোট সুরক্ষার জন্য। বিদেশি পর্যবেক্ষকদের বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের (আওয়ামী লীগ) কনসার্ন আমরা বুঝতে পারছি। দেশীয় দলীয় পর্যবেক্ষকদের ২২টার মধ্যে ১৮টির ওয়েবসাইট নেই। আবার দুটির ক্ষেত্রে একই ব্যক্তি একটিতে চেয়ারম্যান ও আরেকটিতে চিফ এক্সিকিউটিভ। সেই প্রতিষ্ঠানের স্পন্সর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। আওয়ামী লীগের অবজারভারদের দিয়ে সবকিছু করতে চায়, বাইরের কেউ দেখবে তারা চায় না। নিয়ন্ত্রণের নির্বাচনের মাধ্যমে ফল পেতে চায়। অবজারভার, ইভিএম সেভাবেই করেছে।
বিজয়ী হওয়ার জন্য নির্বাচনে এসেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিএনপি শুধু জিতবে না, বহু ভোটে জিতবে। তাই ভোট নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নিয়ে আসা হচ্ছে। সবাই মিলে নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের পর্যায়ে নিয়ে গেছে। এখনও আশায় আছি, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নির্বাচন কমিশন চাইলে পরিবর্তন সম্ভব। চাইলেই জনগণের ভোট ফিরিয়ে দিতে পারেন তারা। গ্রেফতার বিষয়ে তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের সঙ্গে কিছু সংস্থার লোক কাজ করছে। যারা জড়িত তাদের পক্ষ থেকে অনেক কিছু করানো হচ্ছে। এর আগে বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে থেকে সিইসি কে এম নুরুল হুদা, নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহদাত হোসেন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য বিজন কান্তি ও যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল উপস্থিত ছিলেন।