স্টাফ রিপোর্টার, মনিরামপুর (যশোর) ॥ সরকার যখন কোচিং সেন্টার বন্ধের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে, তখন যশোরের মনিরামপুর পৌরশহরের একাউন্টিং কোচিং সেন্টারে গত সোমবার বিকেলে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহসান উল্লাহ শরিফী। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছবিসহ ছড়িয়ে পড়লে সর্বত্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
পৌরশহরের দক্ষিণ মাথায় অবস্থিত একাউন্টিং কোচিং সেন্টারটি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে পরিচালিত হয়ে আসছে কয়েকবছর ধরে। আসন্ন এসএসসি পরীক্ষায় এ প্রতিষ্ঠান থেকে ৬৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে সোমবার বিকেলে কোচিং সেন্টারটিতে আয়োজন করা হয় এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহসান উল্লাহ শরিফী। রাতে প্রধান অতিথির বক্তব্যের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় নানা সমালোচনা।
হারুন-অর-রশীদ নামে এক ব্যক্তি ফেসবুকে তার আইডিতে উল্লেখ করেন, ‘কোচিং সেন্টার বন্ধের জন্য সরকার সচেষ্ট। কিন্তু মনিরামপুরে…….।’ মো. শাহ্ জালাল নামের একটি আইডি থেকে মন্তব্য আসে, ‘মনিরামপুরের ইউএনও বর্তমান বিতর্কিত একজন লোক। উনি নিজেই কোন আইন মানেন না।’ মো. বদরুল ইসলাম তার আইডিতে মন্তব্য করেন, ‘যশোর জেলায় সবচেয়ে বেশি কোচিং বাণিজ্য মনিরামপুরে। শুধু দিনেই নয়, রাতেও শুরু হয়েছে এই বাণিজ্য। যার ফলে তৈরি হচ্ছে মেধাহীন জাতি।’ মনিরুজ্জামান লিখেছেন ‘উনি ভোটে দাঁড়াবে তাই…।’ এভাবেই মুহূর্তের মধ্যে ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় উঠে।
এসএসসি পরীক্ষা উপলক্ষে সরকার গত ২৫ জানুয়ারি থেকে সকল কোচিং সেন্টার বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, মনিরামপুরে একাউন্টিং কোচিং সেন্টারে গত সোমবার (২৭ জানুয়ারি) পর্যন্ত কাস নেয়া হয়। যদিও গত বছর পরীক্ষার সময় এই কোচিং সেন্টারে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সহকারি কমিশনার (ভূমি) সাইয়েমা হাসান অভিযান চালিয়ে পরিচালক মহিবুল্লাহ মুহিবকে আর্থিক জরিমানা করেন এবং সেন্টারটি বন্ধ করে দেন।
কোচিং সেন্টারের পরিচালক মুহিবুল্লাহ মুহিব সাংবাদিকদের জানান, তার কোচিং সেন্টার থেকে এবার ৬৩ জন এসএসসি পরীক্ষার্থী বিদায় নিয়েছে। বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানে সব মিলিয়ে ২৩৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এ উপলক্ষে সোমবার বিকেলে ৬৩ জন এসএসসি পরীক্ষার্থীকে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। তিনি জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মতামত নিয়েই তাকে প্রধান অতিথি করা হয়। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বিকাশ চন্দ্র সরকার জানান, এসএসসি পরীক্ষা উপলক্ষে কোচিং বন্ধের ব্যাপারে মৌখিক নির্দেশনা থাকলেও এখনও তিনি লিখিত আদেশ হাতে পাননি। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহসান উল্লাহ শরিফী সাংবাদিকদের জানান, মূলত কোচিংয়ের ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের নিরুৎসাহিত করতে তিনি কোচিং সেন্টারে বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তবে যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ বিম্ময় প্রকাশ করে জানান, কোচিং সেন্টারে বিদায়ী অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের যোগ দেওয়া ঠিক হয়নি।




