ইউনিফর্ম ছেড়ে হাসপাতাল কর্মচারীদের প্রতারণা বাণিজ্য

স্টাফ রিপোর্টার॥ ইউনিফর্ম ছেড়ে বহিরাগত দালালদের মতো প্রতারণা শুরু করেছে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা। কর্তৃপক্ষের চোখ এড়াতে তারা সাধারণ মানুষের বেশে দালালীসহ রোগী ও তাদের স্বজনদের সাথে প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন ।
সূত্র জানিয়েছে, যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে সরকারি ও বেসরকারি আউটসোর্সিং স্বেচ্ছাসেবক মিলে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী রয়েছেন ১শ’ ৫০ জনের মতো। এদের ভেতর সরকারি ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীর সংখ্যা ৯৪ জন। বাকি কর্মচারীরা আউট সোর্সিং ও স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে চাকরি করেন। এ সকল কর্মচারীর ইউনিফর্ম পরেও আইডি কার্ড গলায় ঝুলিয়ে দায়িত্ব পালন করার নিয়ম থাকলেও তারা তা পালন করেন না। অধিকাংশ সময় হাসপাতাল ছেড়ে বসে থাকেন সামনে ঘোপ নওয়াপাড়া রোডে বিভিন্ন চায়ের স্টল, ফার্মেসি ও কিনিকের গলিতে। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা রোগীদের ওষুধ কেনা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পাঠানো এবং কমিশন নেয়ার কাজে জড়িত রয়েছেন ৪র্থ শ্রেণির ওই সকল কর্মচারীরা। একই সাথে হাসপাতালের বাইরে ও ওয়ার্ডে দৌরাত্ম্য রয়েছে বহিরাগত দালালদের। ফলে কে হাসপাতালের কর্মচারী আর কে বাইরের লোক তা রোগী ও তার লোকজন চিনতে পারেন না। কর্মচারী পরিচয় দিয়ে বহিরাগতরা সাধারণ রোগী ও তাদের অভিভাবকদের প্রতারণায় ফেলে পছন্দের কিনিকে নিয়ে যান এবং ফার্মেসিতে নিয়ে বেশি মূল্যে ওষুধ কিনে দেন। বিনিময়ে সেখান থেকে নির্দিষ্ট অংকের কমিশন নিয়ে সটকে পড়েন। হাসপাতালের কর্মচারীরা ইউনিফর্ম পরলে ধরা পড়বে এ ভয়ে তারা সাধারণ বেশে চলাফেরা ও দালালি করেন। শুধুমাত্র আইডি কার্ড গলায় ঝুলিয়ে রাখেন। বাইরে গেলে কর্মচারীরা। সেই আইডি কার্ডও খুলে লুকিয়ে রাখেন। এ ব্যাপারে হাসপাতালের নবাগত তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এক সময় সরকারি কর্মচারীরা ইউনিফর্ম পরতো। এর জন্যে সরকারি টাকাও দেয়া হতো। দেখা যাক, কিছু করা যায় কি না।

ভাগ