“ট্রাকের বৈধ কাগজ পেতে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছে”

স্টাফ রিপোর্টার, কেশবপুর (যশোর) ॥ বিআরটিএ-এর অযৌক্তিক দাবির কারণে ট্রাক মালিক আমজাদ হোসেন যন্ত্রণায় ভুগছেন। সোমবার সকালে নিজ বাসভবনে ট্রাক মালিক আমজাদ হোসেন এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, তার একটি ট্রাক ৬ বছর মিথ্যা মামলায় আটক রাখার হয়েছিল। ৬ বছর গাড়িটি রাস্তায় চালানো সম্ভব হয়নি। তারপরও মামলা পরিচালনাসহ গাড়ি ছাড় করতে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২২ লাখ টাকা। অথচ বিআরটিএ রুট পারমিট , ট্যাক্স টোকেন, ইনকাম ট্যাক্স, ইন্স্যুরেন্স ফিসহ আমার কাছে ৪ লাখ টাকা দাবি করেছে।
যশোরের কেশবপুর উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের মৃত তোফাজ্জেল হোসেনের পুত্র আমজাদ হোসেন সোমবার সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি উল্লেখ করেন লিটন মটরস হতে ব্যাংক লোনের মাধ্যমে ৩৬ লাখ টাকা মূল্যের একটি ট্রাক কেনেন। যার নং- যশোর – ট ১১-২৭৩৭। গাড়িটি গত ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ১৪ তারিখে সাতক্ষীরা থেকে আমদানি পণ্য নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিল। চোরাচালানি পণ্য বহনের অভিযোগ এনে বিজিবির চুয়াডাঙ্গা টহল ট্রাকটি আটক করে। বিজিবি শুল্ক গুদাম দর্শনায় জমা দেয়। আটক পণ্যের মূল্য ২ কোটি ১১ লাখ ২৪ হাজার ৪ শ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আটক পণ্যের মালিক যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার বাহাদুরপুর রোডের মেসার্স নজরুল এন্টারপ্রাইজের আবুল হোসেন। গাড়ির প্রকৃত মালিক তার গাড়ি আটকের সংবাদ পেয়ে ওই গাড়িতে পণ্য বোঝাই মাল সম্পূর্ণ বৈধ দাবি করে গাড়ি এবং পণ্য খালাস পেতে আপিল ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেন। দীর্ঘদিন মামলা পরিচালনা শেষে আমদানিকৃত পণ্য এবং গাড়ি সম্পূর্ণ বৈধ উল্লেখ করে কমিশনার শরিফুল ইসলাম গত বছর ২৯ মে রায় দেন। গাড়ির মালিক আমজাদ হোসেন জানান, আদালতে মামলা পরিচালনা শেষে আমি গাড়ি এবং পণ্যের যাবতীয় বৈধ কাগজপত্র দাখিলের পরও গাড়িটি নিজ জিম্মায় নিতে আমার ৬ বছর সময় লেগেছে। এই মামলা পরিচালনাসহ আমার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২২ লাখ টাকা। আমার উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন ট্রাকটি দীর্ঘদিন আটক থাকার কারণে আমি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। অথচ বিআরটিএ ওই ট্রাকটির কাগজ পত্রে যেসব দাবি করা হচ্ছে সেটা সম্পূর্ণ অনৈতিক। আমার গাড়িটি দীর্ঘদিন আটক থাকার কারণে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশের ক্ষতি হয়েছে। তারপরও বিআরটিএ এর এই অধিক টাকার দাবি সম্পূর্ণ অমূলক বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ভাগ