চরম বিশৃঙ্খলা ও অরাজক পরিবেশ যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে

স্টাফ রিপোর্টার॥ যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের ভেতর ও বাইরে চরম বিরাজ করছে বিশৃঙ্খল পরিবেশ। ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি, বহিরাগত দালাল এবং যানবাহনের যত্রতত্র অবস্থান ও অপতৎপরতায় এ পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রায় প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা হাসপাতালের গাইনি, সার্জারি, অর্থোপেডিক, ইএনটি, মেডিসিন, কার্ডিয়াক, জরুরি বিভাগ ও করোনারি কেয়ার ইউনিটের সামনে অবস্থান নেন। তারা আইফোন নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে রোগীর অপেক্ষায়। ডাক্তারের চেম্বার থেকে রোগী বের হলেই ওই প্রতিনিধিদের খপ্পরে পড়েন। তারা রোগীর কাছ থেকে জোর করে টিকিট কেড়ে নেন এবং এক এক করে ছবি তুলে ছেড়ে দেন। এ সময় তাদের খপ্পর থেকে বের হতে সময় লাগে ৫ থেকে ১০ মিনিট। প্রতিনিধিদের এমন অত্যাচারে অসহায় রোগীরাড অতিষ্ঠ। শনিবার শতাধিক প্রতিনিধিকে হাসপাতালে দেখা যায়। এ সময় অনেকে টিকিট নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছিলেন। কোন চিকিৎসক কোন কোম্পানির ওষুধ লিখছেন তার প্রমাণ রাখার জন্যে মেডিকেল প্রতিনিধিদের ছবি তোলার প্রতিযোগিতা চলে। নিয়ম রয়েছে, প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার বেলা ১টার পর তারা চিকিৎসকদের চেম্বার সাক্ষাত করতে পারবেন। হাসপাতাল ও জেলা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটি এ নিয়ম করে দিয়েছেন। কোনদিন তারা হাসপাতালে প্রবেশ করতে পারবেন না। কিন্তু এ নিয়ম মানছেন না প্রতিনিধিরা। তাদের পদচারণায় সাধারণ রোগীরা অসহায় এবং অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। প্রতিনিধিদের পাশাপাশি বহিরাগত দালালরাও ভিড় জমায় বর্হিঃবিভাগের টিকিট কাউন্টারসহ চিকিৎসকদের চেম্বারের সামনে এবং ওয়ার্ডে। তারা রোগী ধরে বিভিন্ন কিনিকে নিয়ে যায়। একই সাথে নছিমন, করিমন, প্রাইভেটকার ও বহিরাগত অ্যাম্বুলেন্সে পরিপূর্ণ থাকে হাসপাতাল চত্বর। সেখানে ধারাবাহিকভাবে দু’তিনটি অ্যাম্বুলেন্স রাখার নিয়ম থাকলেও চালকরা তা মানেন না। ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি, বহিরাগত দালাল ও যানবাহনের ভিড়ে হাসপাতালে এমন অরাজক ও বিশৃঙ্খল পরিবেশে বিরাজ করছে। এ চিত্র একদিনের নয়-প্রায় প্রতিদিন লক্ষ্য করা যায়। এ ব্যাপারে নবাগত তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দৈনিক লোকসমাজকে বলেন, নতুন এসেছি। সব কিছু এখনো বুঝে উঠতে পারিনি। তবে বিষয়টি দেখছি। হাসপাতালের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সব অপতৎপরতা বন্ধ করা হবে।

ভাগ