স্টাফ রিপোর্টার, মনিরামপুর (যশোর) ॥ যশোরের মনিরামপুরে মাধ্যমিক এবং দাখিল পর্যায়ে ১৫২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শুধুমাত্র হাজরাকাটি আহম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসায় স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচন হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, এ মাদ্রাসায় নির্বাচন না হলেও ভুয়া ফলাফল তৈরি করা হয়েছে। এ ঘটনায় রোববার মাদ্রাসা সুপার আবদুস সামাদকে শোকজ করে তিন কর্ম দিবসের মধ্যে জবাব চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বিকাশ চন্দ্র সরকার।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস জানান, মনিরামপুর উপজেলায় ১৫২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাধ্যমিক পর্যায়ে রয়েছে ১০৩টি এবং দাখিল মাদ্রাসা রয়েছে ৪৯টি। ১৫২টির মধ্যে ১৫১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে গত শনিবার। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এ নির্বাচনে ৮ জন করে স্টুডেন্টস কেবিনেট নেতা নির্বাচিত হয়। উপজেলার মনিরামপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নাগোরঘোপ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দুর্গাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, গোপিকান্তপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বিজয়রামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ডাঙ্গামহিষদিয়া দাখিল মাদ্রাসা, গালদা-খড়িঞ্চী মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে উৎসবমূখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচন হয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, মনিরামপুর উপজেলার হাজরাকাটি আহম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসায় নির্বাচনের আয়োজন না করার। বিষয়টি জানাজানি হবার পর এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হলে একটি ভুয়া ফলাফলের শিট তৈরি করে প্রচার করা হয় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্বাচন করা হয়েছে।
মাদ্রাসা সুপার আবদুস সামাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, প্রতিদ্বন্দ্বী কোন প্রার্থী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় একটি ফলাফল শিট তৈরি করা হয়েছে। তবে এর কিছুক্ষণ পর ফোন ব্যাক করে ভোল পাল্টিয়ে সুপার আবদুস সামাদ দাবি করেন, সকাল নয়টা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করা হয়। অবাক বিষয়টি হচ্ছে, ওই মাদ্রাসার কোন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী ভোট গ্রহণের সত্যতা জানাতে পারেননি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বিকাশ চন্দ্র সরকার জানান, এ ঘটনায় মাদ্রাসা সুপার আবদুস সামাদকে রোববার শোকজ করে তিন কর্ম দিবসের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে শোকজ প্রাপ্তির সত্যতা জানতে মাদ্রাসা সুপার আবদুস সামাদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে সুপার আবদুস সামাদের বিরুদ্ধে মোটা অংকে তুষ্ট হয়ে তার মাদ্রাসার ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির ১৩ জন শিক্ষার্থীকে মনিরামপুর উপজেলার আজহারুল ইসলাম স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী হিসেবে ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করান। বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহসান উল্লাহ শরিফী তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে সুপারকে শোকজ করেন।





