যবিপ্রবিতে যুক্ত হলো ‘স্মার্ট ক্লাস রুম’

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ সুবিধায় যুক্ত হলো যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ইংরেজি ও মার্কেটিং বিভাগ। এ সুবিধার ফলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ক্যামেরার মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি নিশ্চিত, ক্লাসের পাঠদান ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার, সংরক্ষণ এবং পুনর্ব্যবহার করা যাবে। বাংলাদেশের প্রথম কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের সমন্বিত ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলো।
শনিবার বিকেলে বাংলাদেশ বিশ^বিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. কাজী শহীদুল্লাহ মার্কেটিং ও ইংরেজি বিভাগের ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’-এর উদ্বোধন করেন।
প্রফেসর ড. কাজী শহীদুল্লাহ ইংরেজি ও মার্কেটিং বিভাগের ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি গর্ব অনুভব করছি যে, এ ধরনের সুবিধাসম্পন্ন স্মার্ট ক্লাস রুম আমার মাধ্যমে উদ্বোধন করা হলো। আমি আশা করি এই স্মার্ট ক্লাসরুম দক্ষ ও আদর্শ নাগরিক তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।’
যবিপ্রবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, শুরুতে ইংরেজি এবং মার্কেটিং বিভাগে পরীক্ষামূলকভাবে স্মার্ট ক্লাস রুম চালু করা হলো। যদি এখান থেকে আশানুরূপ ফল পাওয়া যায়, তাহলে যবিপ্রবির ২৬টি বিভাগেই স্মার্ট ক্লাস রুম তৈরি করা হবে।
স্মার্ট ক্লাস রুম সুবিধার জন্য ইংরেজি বিভাগে ৮৬ ইঞ্চি এবং মার্কেটিং বিভাগে ৮২ ইঞ্চি স্মার্ট বোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। ফলে বিভাগ দুটি অত্যাধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষাপোকরণের সাহায্যে বিভাগের পাঠদান অনেক সহজ, প্রাণবন্ত ও বহুমাত্রিক বৈশিষ্টে উন্নীত হলো। এই বোর্ড একই সাথে একটা অত্যাধুনিক কম্পিউটার, টিভি, রেকর্ডারসহ ক্লাসরুম বোর্ডের সব কাজ করতে সক্ষম। স্মার্ট বোর্ডে লিখনসহ ক্লাসের অডিও-ভিডিও রেকর্ড এবং তা সংরক্ষণ ও বিভাগ দুটির ইউটিউব চ্যানেল ও বিভাগের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে সরাসরি প্রচার বা রেকর্ডেড ক্লাস লেকচার আপলোড করার করার সুবিধা রয়েছে। এ জন্য বিভাগ দুটিতে সার্ভারও স্থাপন করা হয়েছে। পাওয়ার পয়েন্ট ডিসপ্লেসহ একটি অত্যাধুনিক কম্পিউটার, প্রজেক্টর ও অডিও-ভিজ্যুয়াল সিস্টেমের সকল সুবিধা ছাড়াও স্মার্ট প্রযুক্তির এই বোর্ডে সহজে সাধারণ হোয়াইট বোর্ডের মত সবকিছু লিখন, পরিমার্জনা ও সংরক্ষণ করা যাবে।
স্মার্ট হাজিরার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণে রোল কল করতে যে সময় নষ্ট হােত সেটা আর হবে না। এমনকি বায়োমেট্রিক হাজিরায় শিক্ষার্থীদের যে সময় নষ্ট হয়, সে সময়টুকুও আর এখানে নষ্ট হবে না। শিক্ষার্থী ও শিক্ষক ক্লাসে ঢোকার সাথে সাথেই ফেস ডিটেকশন ক্যামেরা ক্লাসে প্রবেশ ও প্রস্থানের সময় সংরক্ষণ করবে। স্মার্ট হাজিরার ফলে ক্লাসরুমের সময় বাঁচবে এবং ক্লাসে উপস্থিতিজনিত নম্বরের হিসাব সংরক্ষণের ঝামেলাও দূর হবে। এ প্রযুক্তি সংযোজনের ফলে কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ বা আসতে অপারগ হলে তিনি সরাসরি ক্লাসের সাথে যুক্ত হতে পারবেন। একইসঙ্গে যেকোনো শিক্ষার্থীর অভিভাবকও ক্লাস অনলাইনে সরাসরি দেখতে পারবেন এবং ক্লাসের রেকোর্ডেড অডিও-ভিডিও দেখতে পারবেন।

ভাগ