ক্রমশ নামছে তাপমাত্রার পারদ, মাঘে শীত বাড়ছে

আকরামুজ্জামান ॥ তাপমাত্রার পারদ ক্রমশ নামছে। মাত্র ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে যশোরে তাপমাত্রা কমেছে ১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শনিবার যশোরে সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শীত মৌসুমে এটি যশোরের দ্বিতীয় সর্বনি¤œ তাপমাত্রা। জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এটিই ছিলো এ মৌসুমের এ অঞ্চলের সর্বনিম¤œ তাপমাত্রা। যশোর বীরশ্রেষ্ট মতিউর রহমান বিমান ঘাটির আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানাগেছে, গত ৭২ ঘন্টার ব্যবধানে যশোরে তাপমাত্রা কমেছে ৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস। অল্প সময়ের ব্যবধানে এ তাপমাত্রা কমাকে অস্বাভাবিক বলছে আবহাওয়াবিদরা।
আবহাওয়া অফিসের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, আবহাওয়ার আগাম বার্তায় জানানো হয় গত বৃহস্পতিবার থেকে প্রতি ২৪ ঘন্টায় এক ডিগ্রি করে তাপমাত্রা কমবে। সে হিসেবে বৃহস্পতিবার যশোরের সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ছিলো ১১ দশমিক। তার পরদিন শুক্রবার ছিলো ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্ত শনিবার সেখানে তাপমাত্রা কমে ৮ দশমিক ২ ডিগ্রিতে নেমে আসে। আগামী দু’একদিন তাপমাত্রা আরও কমে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে। সে হিসেবে তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রির নিচে নেমে গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবেনা বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, যশোরসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এর ফলে এ অঞ্চলে কনকনে ঠান্ডার সাথে বইছে উত্তুরের হিমেল বাতাস। এতে তাপমাত্রা যতটা তার চেয়ে শীত অনুভূত হচ্ছে বেশি। শনিবার দুপুরের দিকে তাপমাত্রার পারদ উর্ধমুখি হলেও বিকেলের দিকে তা দ্রুত নেমে যেতে থাকে। যেকারণে কনকনে ঠান্ডায় মানুষের দৈনন্দিন জীবনে মারাত্মক প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও কর্মক্ষম মানুষের ভোগান্তি চরমে ওঠে। মানুষ সকালের দিকে ঘর থেকে বের হতে পারছে না। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা খুব সকালে স্কুল কলেজ গেলেও হাঁড়কাপানো শীতে অনেক কষ্ট পাচ্ছে। এতে অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছে। শিশুদের পাশাপাশি বয়স্ক মানুষও বিপাকে আছেন কড়া শীতের কারণে। তারা শীতে কাবু হয়ে পড়ছেন। আক্রান্ত হচ্ছে শীত জনিত রোগে। উত্তুরের হিমেল হাওয়ার কারণে শীতে অনেকেই ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। তীব্র ঠান্ডায় জেলার বোরো চাষ ব্যহত হচ্ছে। কৃষি শ্রমিকরা ঠান্ডার কারণে সকালের দিকে মাঠে নামতে পারছেন না। অনেকে বীজতলা নিয়ে শঙ্কিত রয়েছে। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, শীতে আপাতত বীজতলা নষ্টের সুযোগ নেই। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক সুশান্ত কুমার তরফদার বলেন, আমরা এই মূহুর্তে বীজ তলা নিয়ে বড় ধরনের ঝুঁকিতে নেই। এর বড় কারণ হচ্ছে ধানের চারা বড় হয়ে যাওয়ায় কোনো সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে মাত্রাতিরিক্ত শীত কুয়াশা দীর্ঘ হলে ধানের চারা হলুদ রঙ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব প্রতিকারে কৃষি বিভাগের লোকজনদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ অব্যাহত রয়েছে। ঠান্ডায় মানুষের পাশাপাশি গৃহপালিত পশুরাও সঙ্কটে রয়েছে। উত্তুরের হিমেল হাওয়ায় গরু-ছাগল পশুপাখি নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। যশোর সদর উপজেলার প্রাণী সম্প অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ডা. তপনেশ্বর রায় বলেন, প্রচন্ড এ ঠান্ডায় গরু-ছাগলের রোগ প্রতিরোধে আমাদের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা কাজ করছেন। শীতের প্রকোপ থেকে গবাদি পশুকে রক্ষা করতে অনেকে গরু ও ছাগলের গায়ে চটের বস্তা জড়িয়ে দিয়ে ঠান্ডা নিবারণের চেষ্টা করছে। রাতের বেলায় গোয়াল ঘরে সতর্কতার সাথে আগুন জ্বালিয়ে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রন করা হচ্ছে।

ভাগ