যশোরে চুরি অভিযোগে ‘গণপিটুনিতে’ হত্যাকান্ড বৃদ্ধি, উদ্বেগ সচেতনমহলে

মীর মঈন হোসেন মুসা ॥ যশোরে চুরির অভিযোগে একের পর এক ‘গণপিটুনিতে’ হত্যাকা- বেড়ে যাওয়ায় সচেতনমহলে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র ১২ দিনে যশোরের অভয়নগর ও ঝিকরগাছায় পৃথক তিনটি ঘটনায় এভাবে ৫ জনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরো ২ জন। অবশ্য আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় এমনটা ঘটছে বলে কেউ কেউ মনে করছেন। কিন্তু আইন হাতে তুলে নিয়ে যারা কথিত অভিযুক্তদের পিটিয়ে হত্যা করছেন তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি হয়ে উঠেছে। নইলে ‘গণপিটুনি’ আরো বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে। তবে পুলিশ বলছে, আইন যাতে কেউ হাতে তুলে না নেয় সেজন্য সংশ্লিষ্ট সকল থানা ও ক্যাম্পের কর্মকর্তাদের সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যশোরে চলতি বছরে প্রথম ‘গণপিটুনিতে’ হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটে অভয়নগর উপজেলার প্রেমবাগে। সেখানে ৩ জনকে গরু চুরির অভিযোগে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। সদর উপজেলার গাইদগাছি গ্রামের আবুল বাশার মোল্যার ছেলে খোরশেদ আলমের বাড়ি থেকে গরু চুরির অভিযোগে তাদেরকে ধরে নিয়ে গিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত ৩ জন ‘গরুচোরের’ মধ্যে প্রথমে দুজনের পরিচয় পাওয়া যায়। পরদিন পাওয়া যায় অপরজনের নাম। এরা হচ্ছেন-বাগেরহাটের ফকিরহাটের কাটাখালী গ্রামের সোহেল ও শওকত এবং খুলনার পাইকাগাছা উপজেলার কলমিবুনিয়া গ্রামের হরিদাস ম-ল। ‘গণপিটুনিতে’ আহত হন জনি শেখ নামে আরো একজন। তার বাড়ি বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার লখপুর পটুয়াপাড়ায়।
ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গত ২২ জানুয়ারি রাতে ঝিকরগাছা উপজেলার দোস্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে গরু চুরির অভিযোগে আরো একজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। উপজেলার চন্দ্রপুর গ্রামের ইনসান আলী মোল্যার বাড়ি থেকে ৩টি গরু চুরির অভিযোগে তাকে হত্যা করা হয়। স্থানীয় লোকজন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তাকে তুলে না দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেন। এ ঘটনায় আহত হন আরো একজন। নিহত ব্যক্তির নাম ইলিয়াস। তিনি ঝিকরগাছা উপজেলার মল্লিকপুর গ্রামের ফয়ার ছেলে। আহত ব্যক্তির নাম আব্দুল। তার বাড়িও মল্লিকপুর গ্রামে। এর দুদিন পর অভয়নগরে আবারো একজন চুরির অভিযোগে ‘গণপিটুনিতে’ নিহত হয়েছেন। উপজেলার শুভড়ারা মাঠপাড়ায় ইলিয়াস শেখ নামে ওই ব্যক্তিকে ভ্যানচোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত ব্যক্তি একই এলাকার হাকিম শেখের ছেলে। এদিকে একের পর এক চোর সন্দেহে ‘গণপিটুনিতে’ হত্যাকা- বেড়ে যাওয়ায় সচেতনমহল উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। তারা মনে করছেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। তবে এ ধরনের ঘটনা রোধে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ‘গণপিটুনিতে’ হত্যাকা-ের ঘটনা আরো বেড়ে যেতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। পাশাপাশি যারা কথিত অভিযুক্তদের পিটিয়ে হত্যা করছেন তাদের বিরুদ্ধেও যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি উঠেছে। যশোর পুলিশ প্রশাসনের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম পিপিএম এ বিষয়ে বলেন, গণপিটুনিতে হত্যাকা- রোধে জেলার সকল থানা ও ক্যাম্প পুলিশের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তাদেরকে বলা হয়েছে, এ জন্য মসজিদ, মাদ্রাসা, কমিউনিটি পুলিশিং ফোরাম এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে সচেনতামূলক প্রচার চালাতে।

ভাগ