মাসুদ রানা বাবু ॥ দৈনিক লোকসমাজকে দেয়া একান্ত সাক্ষাতকারে ছাক্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান সজিব বলেছেন, ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার পতন আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল ছাত্রদল। দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনেই সংগঠনটির ভূমিকা ছিল তেজদীপ্ত। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্যাতিত নিপীড়িত শোষিত-বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের সাথে থেকে লড়াই সংগ্রাম চালিয়েছে ছাত্রদল। খুন, গুম, হামলা, মামলার পরও প্রতিটি নেতা-কর্মী রাজপথে অবিচল রয়েছে। ভবিষ্যতেও থাকবে।
যশোরের বিভিন্ন উপজেলা, পৌর কলেজ ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সাথে মতবিনিময় শেষে তিনি এই সাক্ষাৎকার দেন। মিজানুর রহমান সজিব এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ছাত্রদল জন্ম থেকে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার জন্যে লড়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি নির্যাতিত-নিপীড়িত শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে তাদের অধিকার আদায়ে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, দেশের কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ নেই। দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছে। সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ। তাদের দখলদারিত্ব ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে সব সময় ক্যাম্পাস থাকে উত্তাপ। দুই পক্ষের সংঘাত গোলাগুলি আর অস্ত্রের ঝনঝনানি প্রতিনিয়ত মানুষকে শুনতে হয়। যে কারণে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সুশিক্ষার সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক পরিবেশ নেই। ব্যাহত হচ্ছে কাস পরীক্ষা। ছাত্রদলের গৌরবময় ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, স্বৈরাচার পতনে এই সংগঠনটি রাজপথে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ছাত্রদল তেজদীপ্ত ভূমিকা পালন করে। ভোটারবিহীন নির্বাচনে ক্ষমতাসীন অবৈধ সরকারের রোষানলে ছাত্রদলের লক্ষ লক্ষ নেতা-কর্মী হামলা মামলার শিকার হয়েছেন। অসংখ্য নেতা-কর্মী, খুন, গুম, হয়েছেন পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। তারপরও ছাত্রদল থেমে নেই।
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে ছাত্রদল কতটা প্রস্তুত এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দীর্ঘ ২৭ বছর পর কাউন্সিলদের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠিত হয়। এর কিছুদিন পরই অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিভিন্ন বিভাগের প্রতিনিধি সভা। এর মাধ্যমে তৃণমূল জেগে উঠেছে। এভাবে সুসংগঠিত হয়ে রাজপথে ইস্পাত কঠিন আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা দলের চেয়ারপার্সনকে মুক্ত করে আনবো। ছাত্রলীগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ। যে কারণে শীর্ষ পদে থাকা দুই নেতাকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরাও তাদেরকে বয়কট করেছে। দীর্ঘ ২৮ বছর পর অচল ডাকসু সচল হলেও ছাত্রলীগ পেশীশক্তি ব্যবহার করে সেখানে ফের অচলাবস্থা সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে। ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানী যিনি নৈতিক স্খলনজনিত কারণে সংগঠন থেকে বহিষ্কৃত হন।





