ভুল আসামি আটকে পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে তোলপাড়, শোকজ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে মামলার ওয়ারেন্টে প্রকৃত আসামির পরিবর্তে একই নামের নির্দোষ ব্যক্তিকে আটক ও আদালতে সোপর্দের ঘটনায় পুুুলিশের উপর মহলে তোলপাড় চলছে। কেন এ ধরনের ঘটনা ঘটলো এ বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা খোঁজখবর নিচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। যদিও নির্দোষ ওই ব্যক্তি পুলিশের ভুল স্বীকার করা প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে বুধবার আদালতের দেয়া জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। এদিকে মিজানুর রহমান নামে নির্দোষ ব্যক্তিকে আটকের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কোতয়ালি থানা পুলিশের এএসআই আল মিরাজ খানকে গত বুধবার শোকজ করেছে কর্তৃপক্ষ। ৩ দিনের মধ্যে তাকে শোকজের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, জিআর-৭৯/১৫ মামলার ওয়ারেন্টে সুজলপুর হঠাৎপাড়ার মৃত নুরুল হাওলাদারের ছেলে মিজানুর রহমানের পরিবর্তে খোলাডাঙ্গা সরদারপাড়া আরবপুরপাড়ার মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে মিজানুর রহমানকে আটকের খবর পত্র-পত্রিকায় প্রকাশের পর বিষয়টি পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজির নজরে এসেছে। তিনিও বিষয়টির খোঁজ নিচ্ছেন। যশোরের পুলিশ সুপার আশরাফ হোসেনও এ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়েছেন। এছাড়া ঢাকায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বিষয়টি জেনেছেন। ফলে কেন এ ধরনের ঘটনা ঘটলো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে যশোরের পুলিশ প্রশাসন।
এদিকে পুলিশের ভুলে নির্দোষ স্যানেটারি মিস্ত্রি মিজানুর রহমান আটক ও কারাভোগের ঘটনাটি তদন্ত করছেন যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম পিপিএম। বৃহস্পতিবার তিনি দৈনিক লোকসমাজকে জানান, তাদের এসপি বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছেন। ডিআইজি মহোদয়ও অবগত রয়েছেন। তিনি বলেন, আটক পুলিশ কর্মকর্তা এএসআই আল মিরাজ খানকে এ বিষয়ে বুধবার (২২ জানুয়ারি) শোকজ করেছেন। তাকে ৩ দিনের মধ্যে শোকজের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বুধবার দুপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম নির্দোষ ব্যক্তি আটক বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ‘অনিচ্ছাকৃত ভুল’ বলে জানিয়েছিলেন। ভুল স্বীকার করে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের কথাও তিনি জানান। পুলিশের ওই প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে বুধবার আদালত থেকে জামিন এবং পরে কারাগার থেকে মুক্তিলাভ করেন স্যানেটারি মিস্ত্রি মিজানুর রহমান।  অপরদিকে এএসআই আল মিরাজ খানের সাথে ঘটনার দিন অভিযানে ছিলেন কোতয়ালি থানার এস আই সাইফুল মালেক। তিনি দাবি করেন, ওই মিজানুর রহমানকে সুজলপুর হঠাৎপাড়া থেকেই আটক করেছিলেন। কিন্তু ভুল মিজানুর রহমানকে আটক করা হয়েছিলো কি-না এমন প্রশ্নের অবশ্য তিনি সন্তোষজনক কোন জবাব দেননি।

ভাগ