রূপদিয়া (যশোর) সংবাদদাতা ॥ যশোর সদর উপজেলার রূপদিয়ায় ভারতীয় নাগরিক স্বপন সরকারের (৫৫) রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। সম্পত্তির লোভে দাদা-বৌদি পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করতে পারে বলে এলাকাবাসী ধারনা করছেন। ঘটনাটি ঘটেছে যশোর সদর উপজেলার রূপদিয়া বাজারের মিস্ত্রিপাড়ায়। ভারতীয় নাগরিক স্বপন সরকার রূপদিয়া মিস্ত্রিপাড়ার মৃত শীতানাথ সরকারের মেজো ছেলে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬ টার দিকে বড় ভাই বাবলু সরকারের (বাবলু কামার) বাড়িতে স্বপন সরকার মারা যান। তার এই মৃত্যু নিয়ে এলাকাজুড়ে নানা গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়।
স্বপনের মৃত্যুর খবরে সরেজমিনে গিয়ে বাবলু কামারের সাথে কথা বলে জানা যায়, তার ছোট ভাই স্বপন সরকার ১৯৮২ সালের দিকে স্বপরিবারে ভারতের ২৪ পরগনা জেলায় গিয়ে বসবাস শুরু করে। সর্বশেষ প্রায় ১৫ বছর আগে একবার বাংলাদেশে বেড়াতে এসেছিল। এরপর চলতি জানুয়ারি মাসের ১ তারিখে দালালের মাধ্যমে পাসপোর্ট ভিসা ছাড়াই আমাদের এখানে চলে আসে। সে চোখে কম দেখাসহ নানা রোগে আক্রান্ত ছিলো। নরেন্দ্রপুর ইউনিয়ন পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মোহন লাল দাস, স্থানীয় ব্যবসায়ী অশোক রায়সহ এলাকাবাসী জানান, স্বপন সরকার চলতি মাসের ১ তারিখে বাংলাদেশে আসে। কিন্তু তার বড় ভাই বাবলু সরকার ও তার স্ত্রী বাড়িতে উঠতে দিতে না চাইলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোদাচ্ছের আলীসহ এলাকাবাসীর মধ্যস্থতায় পৈত্রিক ভিটায় আশ্রয় পায়। তবে স্বপনের এখানে থাকাটা ভাই বাবলু সরকার ও তার স্ত্রী মোটেও ভালোভাবে নেয়নি। দাদা-বৌদির ধারনা স্বপন যদি তার প্রাপ্য সম্পত্তির ভাগ চেয়ে বসে সে কারণে তাকে কয়েকদফা ভারতে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করে। কিন্তু ব্যর্থ হওয়ায় কৌশলে হত্যার পরিকল্পনা করতে পারে বলে আশঙ্কা করেন প্রতিবেশীরা। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে স্বপনের এই মৃত্যুতে এলাকাবাসীর সন্দেহের সৃষ্টি হয়। এ খবর পেয়ে স্থানীয় নরেন্দ্রপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ গোলাম মোর্তজা এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্বপনের মৃতদেহ মর্গে প্রেরণ করেন। সংবাদ পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মোদাচ্ছের আলী, ইউপি সদস্য জাকির হোসেন ও স্থানীয় পূজা পরিষদের নেতৃবৃন্দ স্বপনের বিষয়ে জানতে ওই বাড়িতে যান।



