লোকসমাজ ডেস্ক ॥ নওগাঁর হাঁপানিয়া সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে তিন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন বলে জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন। বিজিবি তিনজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পেলেও একজন নিহত হওয়ার কথা নিশ্চিত হতে পেরেছে। জেলার পোরশা উপজেলার নিতপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, কয়েকজন বাংলাদেশি বুধবার রাতে উপজেলার দুয়ারপাল সীমান্ত এলাকার ২৩১/১০(এস) মেইন পিলারের নীলমারী বিল এলাকা দিয়ে ভারতে গরু আনতে যান। “বৃহস্পতিবার ভোরে তারা গরু নিয়ে বাংলাদেশে ফেরার পথে ভারতের ক্যাদারীপাড়া ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা গুলি করেন। গুলিতে নিহত মফিজুল ইসলাম (৩৫) নামের একজনের লাশ বাংলাদেশ সীমায় পড়ে ছিল। ঘটনার পর থেকে রণজিৎ কুমার (২৫) ও কামাল হোসেন (৩২) নামে দুইজনকে পাওয়া যাচ্ছে না।” তাদের লাশ বিএসএফ নিয়ে গেছে বলে তাদের সঙ্গীরা জানিয়েছেন। নিহত মফিজুল পোরশা উপজেলার দিঘিপাড়া গ্রামের খোদাবক্সের ছেলে। নিখোঁজ রণজিৎ একই উপজেলার বিষ্ণপুর বিজলীপাড়ার শুকরার ছেলে আর কামাল একই উপজেলার কাঁটাপুকুরের জিল্লুর রহমানের ছেলে।
বিজিবি ১৬ ব্যাটালিয়নের হাঁপানিয়া ক্যাম্প কমান্ডার নায়েব সুবেদার মোখলেছুর রহমান বলেন, তারা মফিজুল নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত হতে পেরেছেন। “বিএসএফ কর্তৃক তিনজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার কথা শুনেছি। তাদের মধ্যে বাংলাদেশের মফিজুল ইসলাম মারা গেছেন। অন্য দুইজন ভারতে মারা গেছেন কিনা খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।” এ বিষয়ে পতাকা বৈঠকের জন্য বিএসএফকে চিঠি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিজিবি ১৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল হক। এর আগে গতপরশু বুধবার লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সীমান্তে বিএসএফ’এর গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহতের খবর পাওয়া যায়। এ নিয়ে গত দুই দিনে সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে পাঁচ বাংলাদেশির প্রাণ গেল। বুধবার ভোরে ভারত থেকে গরু নিয়ে ফেরার পথে উপজেলার বনচৌকি সীমান্তের কাছে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন লালমনিরহাট -১৫ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এসএম তৌহিদুল আলম। এই ঘটনায় প্রতিবাদপত্র পাঠিয়ে বিএসএফকে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে। গত এক বছরে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে দেশটির সীমান্ত রক্ষা বাহিনী বিএসএফ’র হাতে বাংলাদেশিদের প্রাণহানির সংখ্যা তিন গুন বেড়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের আইন ও সালিশ কেন্দ্র। বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি সংবাদপত্রের তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করে সংস্থাটি। ওই প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ২০১৯ সালে ভারতের সীমান্ত রক্ষা বাহিনী- বিএসএফ’র হাতে প্রাণ হারিয়েছে ৩৮ জন বাংলাদেশি। এরমধ্যে ৩৩ জন গুলিতে প্রাণ হারিয়েছে এবং বাকি ৫ জনকে নির্যাতন করে মারা হয়েছে। অথচ এর এক বছর আগে অর্থাৎ ২০১৮ সালে সীমান্তে এমন প্রাণহানির সংখ্যা ছিল ১৪ জন। সে হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে প্রাণহানির সংখ্যা তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে।
খবর : বিবিসি বাংলা।




