বিএম আসাদ ॥ যশোরে শিশু রোগের প্রকোপ বেড়েছে। নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট, কিডনি, ঠান্ডা, কাঁশি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। যারা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে তাদের অর্ধেক শিশু। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ এ পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন।
সূত্র জানিয়েছেন, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি হতে ২২ দিনে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ১৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শিশু ও সংক্রামক ওয়ার্ড মিলে চিকিৎসা নিয়েছে ৪শ’ ৫০ জন। বহিঃর্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে ৮ হাজার ৯৯ জন। চিকিৎসা নেয়া শিশুদের মধ্যে গতকাল (বুধবার) ডায়রিয়ায় আক্রান্ত আব্দুর রহমান নামে ৪ বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আব্দুর রহমান যশোর সদর উপজেলার কাজীপুরের সবুর গাজীর পুত্র। এর আগে ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত খুলনার পাইকগাছার দেবদর গ্রামের বাবুর ৮ মাসের পুত্র রমজান, হার্টের রোগে ১৬ দিন বয়সের কন্যা আফিয়া মারা যায়। আফিয়া যশোর সদর উপজেলার বড়গোবিন্দপুরের মো. মুন্নার কন্যা। এ রকম ১৫ শিশু চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এদের ভেতর ভূমিষ্ট হওয়ার পর ৫ দিন বয়সের শিশুর সংখ্যা বেশি। এ সময়ে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের বর্হিঃবিভাগে ৮ হাজার ৯৯ শিশু চিকিৎসা নিয়েছে। আন্তঃবিভাগে শিশু ওয়ার্ডে ও সংক্রামক ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিয়েছে ৪শ’ ৫০ জনের অধিক শিশু। সব মিলে ৮ হাজার ৪শ’ ৪৯ জন শিশু গত ২২ দিনে চিকিৎসা নিয়েছে। এ সময়ের মধ্যে মোট রোগী চিকিৎসা গ্রহণ করেছে বর্হিঃবিভাগ ১৮ হাজার ৯শ’ ৪৯ জন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী মোট রোগীর অর্ধেক শিশু চিকিৎসা নিয়েছে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল থেকে। এছাড়া প্রতিদিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের প্রাইভেট চেম্বারে শিশুরা চিকিৎসা নিচ্ছে। অধিক সংখ্যক শিশু অসুস্থ হওয়ার কারণ হচ্ছে- আবহাওয়ার তারতম্যে।
জানুয়ারি মাস জুড়ে চলছে কখনো ঠান্ডা আবহওয়া। কখনো গরম। প্রচন্ড শীত আবার কম শীত। এতে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, কিডনি, ঠান্ডা, কাশি ও শ্বাসকষ্টের মতো বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও অন্যরা। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে হাসপাতালে কর্মরত শিশু বিশেষজ্ঞরা বলেন, বর্তমানে ঠান্ডা কমে গেছে। মাঝে মধ্যে গরম আবার ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। আবহাওয়ার এ তারতম্যের মধ্যে শিশুদের প্রতি অভিভাবকরা অনেকটা অমনোযোগী হয়ে পড়েন। সতর্কতার অভাবে শিশুরা নানা প্রকার রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। যার মধ্যে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টে রোগীর সংখ্যা বেশি। এ অবস্থায় পরিবেশ-পরিস্থিতি অনুযায়ী শিশুদের যতœ নেয়ার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বনের জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পরামর্শ দিয়েছেন।





