চৌগাছা (যশোর) সংবাদদাতা ॥ যশোরের চৌগাছায় কালিয়াকুন্ডি গ্রামে সরকারি খাল দখল করে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করার কারণে বোরো ধান চাষ করতে পারছেন না স্থানীয় কৃষকরা। এ ঘটনায় চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাহিদুল ইসলাম গত ২ জানুয়ারি ওই অবৈধ বাঁধ উচ্ছেদ করেন। খাল দখলকারী স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) মহিলা সদস্যের স্বামী জুল হোসেন গত ৬ জানুয়ারি গ্রামের ৫ জন কৃষকের বিরুদ্ধে আদালত মামলা করেন। মামলার আসামিরা হলেন মৃত সোলাইমানের ছেলে আব্দুল মজিদ, মৃত খলিলুর রহমানের ছেলে আয়ুব হোসেন, হেরমত আলীর ছেলে আব্দুস সাত্তার, সৈয়দেল হক কাজীর ছেলে ওমর আলী কাজী ও মানিক মন্ডলের ছেলে আলী হোসেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২ জানুয়ারি আসামিরা তার নালিশি জমি হতে ৩৫ লাখ টাকার মাছ লুট করে নিয়েছেন। বিষয়টি আমলে নিয়ে আদালত চৌগাছা থানার ওসিকে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন। স্থানীয়দের অভিযোগ উপজেলার কালিয়াকুন্ডি গ্রামে রাজারকাটা খাল থেকে বারো মাসের খাল পর্যন্ত সরকারি খালে অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে পানি আটকিয়ে মাছ চাষ করছেন তিন ব্যক্তি। ফলে খাল পাড়ের ৮ গ্রামের পানি বের হতে পারছে না। এতে কয়েক শ বিঘা জমিতে চলতি বছর বোরো আবাদ করতে পারছেন না কৃষক। এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর চৌগাছার ইউএনও নিজে উপস্থিত থেকে ওই বাঁধ উচ্ছেদ করেছেন। অথচ জুল হোসেন এ ঘটনায় গ্রামের নিরীহ কৃষকদের নামে মামলা করেছেন। এ বিষয়ে গত রবিবার ইউএনও অফিসে দখলদার এবং ভুক্তভোগী পক্ষ, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে এক বৈঠক হয়। এ বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় অবৈধ দখলদার জুল হোসেন ও গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে আর কোনো মামলা করা হবে না। জুল হোসেন তার মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে নেবেন।
মামলার বাদী জুল হোসেন বলেন, ‘আমি ১৫৫ বিঘা জমি লিজ নিয়ে মাছ চাষ করি। গ্রামের মানুষ ইউএনওকে ভুল বুঝিয়ে পাটা-বাঁধ উচ্ছেদ করে আমার অনেক টাকার মাছ লুট করেছে। এজন্য তাদের নামে মামলা করেছি। এসব বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদুল ইসলাম বলেন গত ২ জানুয়ারি অবৈধ বাঁধ উচ্ছেদের সময় দখলদার জুল হোসেন তার মাছ চাষের সম্পত্তি বিভিন্নজনের কাছ থেকে লিজ নেয়া দাবি করলেও নিজের পক্ষে কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। তিনি বলেন এই ১/১ তফসিলভুক্ত সম্পত্তি অবৈধ দখলমুক্ত করতে যাচাই বাছাই করে রেকর্ড সংশোধনী মামলা (মিস কেস) করে সরকারের অনুকূলে ফিরিয়ে আনা হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদুল ইসলাম বলেন, কালিয়াকুন্ডি মৌজায় ৬২২ নং দাগ ১/১ খাস খতিয়ান হিসেবে সরকারি রেকর্ডভুক্ত ছিল। যেখানে জমির পরিমান ৭.৭৭ একর (প্রায় ২৫বিঘা)। ২০১৬/১৭ সালে উপজেলা ভূমি অফিস হতে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে রেকর্ড হয়। এটা সেসময় যোগসাজশে হয়ে থাকতে পারে। কিভাবে খাস খতিয়ানের এই জমি বিভিন্নজনের নামে রেকর্ড হলো সেটা জানতে সংশ্লিষ্ট তহশিল অফিসকে আগামী ১০ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন নির্দেশ দেয়া হয়েছে।





