হিজড়া সম্প্রদায়ের গুরু মা চম্পা হিজড়ার যশোরে মৃত্যু

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি জেলা ও ভারতের বনগাঁয়ের হিজড়া সম্প্রদায়ের গুরু মা হিসেবে সম্মানিত চম্পা হিজড়ার জীবনাবসান ঘটেছে। সোমবার সকালে যশোর শহরের শংকরপুর তুলোতলার হিজড়া বাড়ি হিসেবে পরিচিত তারা মঞ্জিলে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃতুর খবর শুনে দেশের বিভিন্ন স্থানের এবং ভারতের বনগাঁ থেকে হিজড়া সম্প্রদায়ের লোকজন ছুটে আসেন। এবং তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। এদিন বাদ আসর নামাজে জানাজা শেষে চম্পা হিজড়াকে কারবালা কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
চম্পা হিজড়ার শিষ্য নিলু হিজড়া জানান, তাদের মায়ের বয়স একশ বছরেরও বেশি হবে। তিনি ছিলেন তারা হিজড়ার শিষ্য। তারা হিজড়া মারা যাওয়ার পর চম্পা হিজড়া তাদের গুরু মায়ের দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু বার্ধক্যজনিত কারণে গুরু মা চম্পা হিজড়া দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। সর্বশেষ ২ মাস হলো তিনি অসুস্থতার কারণে বিছানা থেকে উঠতে পারতেন না। চম্পা হিজড়ার ভাইপো আনোয়ার হোসেন জানান, তাদের বাড়ি পাবনার চরঘোষপুর গ্রামে। তার ফুফু পাকিস্তান আমল থেকে যশোরে এই হিজড়া বাড়িতে রয়েছেন। বার্ধক্যজনিত কারণে সোমবার সকাল ৯টার দিকে তিনি মারা গেছেন। খবর পেয়ে তারা যশোরে এসেছেন। নিলু হিজড়া জানান, গুরু মায়ের মৃত্যুর খবরে তাদের হিজড়া সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। যশোর জেলার বিভিন্ন স্থানের এবং ঢাকা, মাগুরা, নড়াইল, সাতক্ষীরাসহ ভারতের বনগাঁ থেকে তাদের হিজড়া সম্প্রদায়ের লোকজন ছুটে এসেছেন গুরু মাকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য।
ভারতের বনগাঁ থেকে এসেছেন সখি, পাখি, নয়ন, ঝর্নাসহ বেশ কয়েকজন হিজড়া। এদের মধ্যে সখি হিজড়া বলেন, চম্পা হিজড়া ছিলেন তাদের অভিভাবক। তাই মাকে শেষ বারের মতো দেখতে তারা খবর পেয়ে যশোরে ছুটে এসেছেন। দিল্লি থেকেও হিজড়ারা আসতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পাসপোর্টের ভিসা না থাকার কারণে তারা আসতে পারেননি। অপরদিকে চম্পা হিজড়ার মৃত্যুর খবর শুনে তারা মঞ্জিলে যান যশোর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর অ্যাড. হাজি আনিছুর রহমান মুকুল। এ সময় তিনি শোকাহত শিষ্যদের সান্তনা প্রদান করেন।