স্টাফ রিপোর্টার ॥ আবারো শীত জেঁকে বসার আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। আজ মঙ্গলবার থেকে আরও কমতে থাকবে। ফলে বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার তিনদিন এ অঞ্চলে তীব্র শীতের সম্ভাবনা রয়েছে। এসময়ে রাত থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশা পড়বে। তবে রোববার থেকে তাপমাত্রা আস্তে আস্তে উন্নতির দিকে যাবে বলে আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন।
যশোর বীরশ্রেষ্ট শহীদ মতিউর রহমান বিমান ঘাটির আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানাগেছে, সোমবার যশোরে সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শীত মৌসুমে এ তাপমাত্রা স্বাভাবিক হলেও উত্তরের হিমেল হাওয়ার কারণে ঠান্ডা অনুভূত হয়েছে বেশি। পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে মঙ্গলবার থেকে এ অঞ্চলে তাপমাত্রা কমতে থাকবে। আজ তাপমাত্রা ১১ দশমিকের কাছাকাছি থাকবে বলে আবহাওয়া অফিস জানায়।
আবহাওয়া অফিসের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা বলেন, সোমবারের পর থেকে ক্রমান্বয়ে ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা কমতে থাকবে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। খুলনা বিভাগের দুয়েক জায়গায় গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিরও সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, জানুয়ারির শেষের দিকে আরেকটি শৈত্যপ্রবাহ শুরু হতে পারে এ অঞ্চলে। তবে সেটি কোন মাত্রায় হবে সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
এদিকে গত প্রায় একমাস কনকনে ঠান্ডার পর তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় মানুষ অনেকটা স্বস্তি প্রকাশ করে। সোমবার থেকে এ অঞ্চলে আবারও শীতের আগমনী বার্তায় অনেকে চিন্তায় পড়েছেন। বিশেষ করে এ অঞ্চলের সবজি ও বোরো চাষিরা চিন্তায় পড়েছেন বেশি। বিগত দুই দফা শৈত্যপ্রবাহের কারণে এ অঞ্চলের বোরো ধানের বীজতলা ও সবজির উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। আবার শৈত্যপ্রবাহের কবলে পড়ে তাদের কতটা সর্বনাশ হবে সে চিন্তায় মাথায় হাত উঠেছে কৃষকের। তবে এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক সুশান্ত কুমার তরফদার বলেন, শৈত্যপ্রবাহে বোরোর বীজতলার ক্ষতি করার কোনো সম্ভাবনা নেই। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে যশোরে যেসব বীজতলা করা হয়েছে তা বড় হয়ে গেছে। অনেক জায়গায় কৃষক বোরো ধান রোপন করা শুরু হয়েছে। তবে সামনে শৈত্যপ্রবাহ কতটা স্থায়ী হয় তার ওপর নির্ভর করছে সবজিসহ অন্য ফসলে কতটা লাভ বা ক্ষতি হবে।





