লোকসমাজ ডেস্ক ॥ পতনের ধারা থেকে পুঁজিবাজারকে ফেরাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ। বুধবার জাতীয় সংসদে এক অনির্ধারিত আলোচনায় এ প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। বরোধীদলীয় সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘সব পত্রিকায় শেয়ারবাজার নিয়ে সংবাদ হচ্ছে। শেয়ারবাজার নিয়ে কেন এমন হলো? বিশেষজ্ঞরা বলছে, মার্কেটে সুশাসনের অভাব। বিনিয়োগকারীরা ভরসা পাচ্ছে না। এটা বাজারের জন্য অশনিসংকেত। যদি প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপ করেন, তবে বাজার ফিরে আসতে পারে।’ পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের কাজ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এটা কেন হচ্ছে? মন্ত্রী মিটিং করেছিলেন। সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন ছিল। স্টেক হোল্ডাররা ছিল। আমাদের মন্ত্রীর সামনে আমি কিছু প্রস্তাব তুলে ধরেছিলাম। বলেছিলাম, দুর্বল কোম্পানিগুলোর লিস্টিং যাতে না নেয়।’
সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) সমালোচনা করে কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘ইতিমধ্যে শেয়ার মার্কেট ডিমিউচুয়ালাইজেশন হয়ে গেছে। এই যে শেয়ার মার্কেটের এই অবস্থার একমাত্র কারণ দুর্বল কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে লিস্টিং দেওয়া হয়েছে। আমাদের কিছু করার থাকে না। লিস্টিং দেয় সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন। আমরা বারবার বলি এই কোম্পানির লিস্টিং দিতে পারব না। কিছু মার্চেন্ট ব্যাংক, দুর্বল ও পচা কোম্পানি নিয়ে আসছে বাজারে। বিনিয়োগকারীদের রাস্তায় বসিয়ে দিয়েছে।’ তনি বলেন, ‘এসইসি যারা দেখাশোনা করবে, তারা পচা কোম্পানিগুলো গছিয়ে দিচ্ছে। এই কোম্পানির শেয়ার নেমে আসতে আসতে ৭, ৮, ১০ টাকায় নেমে মূল দামের নিচে চলে আসে। বিনিয়োগকারীরা শেষ হয়ে যাচ্ছে। ১০ টাকার শেয়ার ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পরে তা ১৫ টাকায় নেমে এসেছে।’ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘৩০ বছর ধরে শেয়ারবাজারে যাতায়াত করে, এখন পায়ে জুতা নেই। তারা বলে আমাদের দেখার কি কেউ নেই? আমাকে বলেছে, সংসদে এসে বলতে। সমস্ত দোষ বিনিয়োগকারীদের দেওয়া হয়। তারা (এসইসি) যে পচা কোম্পানি আনছে, সে ব্যাপারে কিছু করা হচ্ছে না। কারও বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আজ পর্যন্ত নেওয়া হয়নি। ইস্যু ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। মার্চেন্ট ব্যাংককে জবাবদিহির আওতায় আনা হচ্ছে না।’ বএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ বলেন, ‘মন্ত্রীরা বলেন, সংকট নেই। আমরা হতভম্ব হয়ে যাই, বিস্মিত হয়ে যাই। গত এক সপ্তাহ ধরে মানুষ শেয়ারবাজারের জন্য রাস্তায় শুয়ে পড়েছে। কান্নায় বিপর্যস্ত। লাখ লাখ পরিবার ধুলায় মিশে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে সরকার দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে আমরা আশ্বস্ত হতে পারছি না।’ ্রসঙ্গত, বাংলাদেশের পুঁজিবাজার এক দশকের মাথায় আরও একটি বড় ধসের মধ্যে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ফের রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছেন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা। পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে তারা গত মঙ্গলবার মতিঝিলে ডিএসই ভবনের সামনে মানববন্ধন করেন। যদিও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক কিছুটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০৬৮ পয়েন্ট।





