বেনাপোল কাস্টমসের লকার থেকে চুরি যাওয়া ১৯ কেজি সোনা উদ্ধার হয়নি

নাভারণ (যশোর) সংবাদদাতা ॥ বেনাপোল কাস্টমসের লকার খুলে ১৯ কেজি ৩ শ ৮০ গ্রাম স্বর্ণ চুরির ঘটনার কাস্টমসের চুক্তিভিক্তিক কর্মচারী বেনাপোল গাজিপুর গ্রামের আজিবর রহমান আটক হলেও দুই মাসে চুরি হওয়া সোনা উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। স্থানীয়দের দাবি, কাস্টমের অবহেলার কারণে সরকারের এ সম্পদ চুরির ঘটনা ঘটেছে। নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সরকারের এত মূল্যবান সম্পদ যারা অবহেলায় রেখেছিলেন তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া দরকার। বর্তমানে স্বর্ণ চুরির বিষয়টি সিআইডি তদন্ত করছে।
বেনাপোল সীমান্তের বিভিন্ন এলাকা থেকে চোরাকারবারিদের কাছ থেকে জব্দ করা স্বর্ণসহ মূল্যবান সম্পদ জমা রাখা হয় কাস্টম হাউজের লকারে। গত ২০১৯ সালের ৮ নভেম্বর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত ছুটির সময়ে লকার ভেঙে চুরি হয়ে যায় স্বর্ণ, রুপি ও টাকা। লকারে থাকা আরো স্বর্ণ, বৈদেশিক মুদ্রা ও অন্যান্য সম্পদ অক্ষত অবস্থায় ছিল। আবার কক্ষটির পাহারার দায়িত্বেও কেউ ছিলেন না। সিসি ক্যামেরার নিরাপত্তার মধ্যে চুরির ঘটনা ঘটলেও চুরি হওয়া সম্পদ উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বন্দরের কাস্টমস কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা বলছেন, অপরাধী শনাক্ত করতে ব্যর্থ হলে আগামীতে এমন ঘটনা আবারও ঘটতে পারে। বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘স্বর্ণ চুরির ঘটনার পর পর কাস্টমসের পাঁচজনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তথ্য প্রযুক্তির এ যুগে চুরি হওয়া স্বর্ণ উদ্ধার না হওয়ায় বিস্মিত হয়েছি। অপরাধীদের দ্রুত ধরা দরকার। যেন আর কেউ ভবিষ্যতে সরকারের সম্পদ চুরি করতে সাহস না পায়’। বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুন খান বলেন, ‘২০১৯ সালের ৯ নভেম্বর বেনাপোল কাস্টমসের লকার থেকে ১৯ কেজি ৩ শ ৮০ গ্রাম স্বর্ণ খোয়া যায়। এ ঘটনায় বেনাপোল পোর্ট থানায় মামলা হয়। মামলাটি বর্তমানে সিআইডি তদন্ত করছে’। তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি ইন্সপেক্টর জাকির হোসাইন জানান, ঘটনার সাথে জড়িত কাস্টমসের চুক্তিভিক্তিক কর্মচারী বেনাপোলের গাজিপুর গ্রামের আজিবর রহমানকে আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে যা প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

ভাগ