শেখ আব্দুল্লাহ হুসাইন ॥ যশোরের বড় বাজারে চলতি মাসে দু দফা র্যাবের অভিযানে অবৈধভাবে বিক্রি করা প্রায় ৩শ লিটার চোলাই মদ জব্দ করা হয়েছে। এর আগেও বহুবার এ বাজারে অভিযান চালানো হয়েছে। শ শ লিটার মদ বিনষ্ট করা হয়েছে। প্রতিবারই আটক ব্যক্তিরা জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও অবৈধ এই কারবার চালিয়ে যান। স্থানীয়দের অভিযোগ মদের এ দোকানগুলোতে হঠাৎ হঠাৎ করে অভিযান চালানো ছাড়া কখনও অবৈধ এ ব্যবসা বন্ধ করে না অভিযান পরিচালনাকারী সংস্থাগুলো।
যশোর শহরের বড় বাজারে হাটখোলা রোডের মাড়–য়ামন্দির সংলগ্ন পতিতালয় ও বাবুবাজার পতিতালয়কে ঘিরে গড়ে উঠেছে অন্তত ২৮টি অবৈধ মদের দোকান। জনবহুল এ বাজারে প্রকাশ্যে বছরের পর বছর দোকানগুলোতে ক্ষতিকর বাংলা ও চোলাই মদ বিক্রি হয়ে আসছে। বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর অভিযান চালিয়ে দোকান থেকে অবৈধ মদ জব্দ করে বিনষ্ট করে। তাদের হাতে বেশিরভাগই এসব দোকানের কর্মচারীরা আটক হয়ে কারাগারেও যান। দোকানের মালিকরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। কিন্তু আজ পর্যন্ত প্রশাসন এসব অবৈধ মদের দোকানগুলো উচ্ছেদে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকেও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোন ভূমিকা নিতে দেখা যায়নি। এছাড়া সোর্স নামে অভিযান পরিচালনাকারী সংস্থাগুলোর প্রতিটির দালাল রয়েছে মদপট্টিতে। তাদের ইচ্ছায়ই হয়ে থাকে অভিযান। স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, অভিযানের আগে সোর্সগুলো জানিয়ে রাখে মদ ব্যবসায়ীদের। ফলে অভিযানে দোকান মালিকরা আটক হয় না। গত ১৪ জানুয়ারি মঙ্গলবার দুপুরে র্যাব-৬ সিপিসি-৩ যশোর ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট এম মাহামুদুর রহমান মোল্লার নেতৃত্বে একটি টিম শহরের বড় বাজারের বাবুবাজার পতিতালয়ের সামনে অভিযান চালায়। সেখানে একটি দোকান থেকে ২১৫ লিটার চোলাই মদ জব্দ এবং অবৈধ এ ব্যবসার সাথে জড়িত তিনজনকে আটক করা হয়। এর আগে ১২ জানুয়ারি রোববার ওই একই বাজারে র্যাবের অভিযানে আরেকটি দোকান থেকে ৭৫ লিটার চোলাই মদসহ দুজন আটক হয়। এসব অবৈধ মদের দোকানগুলো উচ্ছেদের বিষয়ে জানতে চাইলে র্যাবের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট এম মাহামুদুর রহমান মোল্লা বুধবার এ প্রতিবেককে জানান, ‘আমরা অবৈধ কিছু পেলে সেগুলো জব্দ করতে পারি, ওই দোকানগুলো শুধুমাত্র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা সিলগালা করতে পারেন।’ তিনি আরও জানান, অবৈধ কারবারের বিরুদ্ধে র্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যশোর শহরের বড় বাজার হাটখোলা রোডে মাড়–য়ামন্দির সংলগ্ন পতিতালয়ের সামনে সরকার অনুমোদিত একটি মাত্র বাংলা মদের দোকান আছে। তার এই বৈধ দোকানকে ঘিরে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ মদের দোকান। এখানে অবৈধ মদের দোকান খুলে বসেছেন অন্তত ১৭ জন। এরা হচ্ছেন-হাসান, সুলতান, পিন্টু, মনি, কালামন্টু, সাধন, কালীদাস, রতন, নান্টু, বাবু, সাজু, রেজা, রুস্তম, কাওসার, কৃষ্ণ, পিকুল ও জয় (পান দোকানদার)। আর হাটখোলা রোডের বাবুবাজারে পতিতালয়ের সামনে অবৈধ মদের দোকান দিয়ে কারবার করছেন অন্তত ১১ জন। এরা হচ্ছেন-কুরবান, সফি, রশিদ, মোতালেব, জাকির, মহসিন, মন্টু সাহা, পাপ্পু সাহা, জসিম, শহীদ ও মামুন।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৈধ বাংলা মদের ব্যবসায়ীর দোকান থেকে প্রতিদিন এসব অবৈধ কারবারীরা মদ কিনে তাতে ট্যাবলেট ও স্পিরিটসহ অন্যান্য দ্রব্য মিশিয়ে তাদের ছোট ছোট দোকানে বিক্রি করেন। মূলত শহরের উঠতি বয়সী ও যুবকরা এসব গুমটি দোকানে বসে বাংলা ও চোলাই মদ সেবন করে থাকে। ব্যস্ততম বড় বাজারে অবস্থিত এসব দোকান থেকে মদ খেয়ে ভারসাম্য হারিয়ে অনেক সময় সাধারণ মানুষের ওপর চড়াও হয় সেবনকারীরা। পতিতালয় সংলগ্ন মদের দোকান গড়ে ওঠায় মাতালদের দ্বারা অপরাধ সংঘটিত হওয়ার ঘটনাও কম হয় না। অবৈধ এসব গড়ে ওঠা মদের দোকানগুলো উচ্ছেদ করার বিষয়ে বুধবার এ প্রতিবেদকের কথা হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর যশোরের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ বাহাউদ্দিনের (অতি.দায়িত্ব) সাথে। তিনি জানান, যশোর শহরের হাটখোলা রোডে মাড়–য়ামন্দির সংলগ্ন পতিতালয়ের সামনে সরকার অনুমোদিত বাংলা মদের একমাত্র দোকান জনৈক ইয়াকুব কবিরের। যাদের মদ খাওয়ার পারমিট আছে শুধুমাত্র তারা ওই দোকান থেকে মদ কিনতে পারবেন। পারমিটধারী মদ সেবনকারীরা অন্য কোথাও মদ বিক্রি করতে পারবেন না। আর অনুমোদিত বাংলা মদের দোকানকে ঘিরে বা বাবুবাজারে যেসব মদের দোকান গড়ে উঠেছে তা সবই অবৈধ। এসব অবৈধ মদের দোকানগুলো উচ্ছেদ করা হবে। উল্লেখ্য, দেশের আইন অনুসারে মুসলিম নাগরিকদের জন্য মদ অবৈধ। তবে কোনো মুসলমান চিকিৎসার প্রয়োজন ছাড়া মদ পান করতে পারবেন না। এজন্য মেডিকেল কলেজের একজন সহযোগী অধ্যাপক বা সিভিল সার্জনের কাছ থেকে ব্যবস্থাপত্র নিতে হবে। আর মুচি. মেথর, ডোম, ঝাড়–দার পারমিট নিয়ে দেশি মদ কিনে খেতে পারবেন। তবে তারা কারও কাছে বিক্রি করতে পারবেন না। জমজমাট বড় বাজারে প্রতিদিন হাজারো নারী-পুরুষ আসেন কেনাকাটা করতে। মাতালদের দ্বারা নিগৃহীত হওয়ার ঘটনাও ঘটে থাকে প্রায়ই। প্রশাসনের কাছে এখানকার ব্যবসায়ীদের দাবি অবৈধ এসব মদের দোকান সিলগালা করে দিয়ে নির্বিঘেœ মানুষের চলাচলের ব্যবস্থা করার।





