স্টাফ রিপোর্টার, মনিরামপুর (যশোর) ॥ যশোরের মনিরামপুরে ন্যায্যমূল্যে আমন ধান সংগ্রহে চাষিদের পরিবর্তে লাভবান হচ্ছে মধ্যস্বত্তভোগীরা। এ সংক্রান্ত সচিত্র প্রতিবেদন লোকসমাজসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর উপজেলা প্রশাসনে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। আমন সংগ্রহে মধ্যস্বত্তভোগীদের ঠেকাতে গতকাল মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) উপস্থিতিতে প্রকৃত চাষিদের লাইন দিয়ে ৪৭ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন, এভাবে বাকি ধান সংগ্রহ করা হবে তো?
মনিরামপুর উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত অফিসার মনিরুজ্জামান মুন্না জানান, মনিরামপুরে এবার আমন ধান সংগ্রহের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৫৩১ মে.টন। কৃষি অফিসের প্রস্তুতকৃত ৪৫ হাজার চাষির মধ্যে লটারির মাধ্যমে চুড়ান্ত করা হয়েছে ২ হাজার ১৫০ জনকে। ১ হাজার ৪০ টাকা মণ দরে প্রতি চাষির কাছ থেকে এক থেকে দেড় মে.টন ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয় ১২ ডিসেম্বর। গতকাল মঙ্গলবার ধান সংগ্রহ করা হয়েছে ৪৭ মে.টন। এ নিয়ে মোট সংগ্রহ করা হলো ৩২০ মে.টন। নিয়ম রয়েছে কার্ডধারী যেসব চাষি চলতি মৌসুমে আমন ধান চাষ করেছেন শুধুমাত্র সেসব চাষির নাম ক্রয় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্তরা সঠিকভাবে যাচাই বাছাই না করে গোজামিল দিয়ে তড়িঘড়ি করে তালিকা প্রস্তুত করায় ভুয়া নামের ছড়াছড়ি হয়েছে। এ সুযোগে মধ্যস্বত্তভোগী একটি সিন্ডিকেট এলাকার অধিকাংশ উপসহকারি কৃষি অফিসারদের ব্যবহার করে চাষিদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে কৃষিকার্ড সংগ্রহের পর নির্ধারিত ফরমে স্বাক্ষর আদায় করছেন বলে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে লোকসমাজসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে উপজেলা প্রশাসনে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। আমন সংগ্রহে মধ্যস্বত্তভোগীদের ঠেকাতে গতকাল উপজেলা নির্বাহী অফিসারের উপস্থিতিতে প্রকৃত চাষিদের লাইন দিয়ে ৪৭ মে.টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ছাড়াও এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার হিরক কুমার সরকার, খাদ্য নিয়ন্ত্রক মামুন হোসেন খান, উপজেলা রিসোর্স সেনটারের ইন্সট্রাক্টর মকবুল হোসেন, খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত অফিসার (ওসিএলএসডি) মনিরুজ্জামান মুন্না প্রমুখ। আমান সংগ্রহ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহাসন উল্লাহ শরিফী জানান, আমন সংগ্রহে যেকোনভাবে মধ্যস্বত্তভোগীদের ঠেকাতে জনমত গড়ে তোলাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।





