চৌগাছা থেকে সাত বছর ধরে নিখোঁজ একই পরিবারের চারজনসহ সাত জন : আটক আদম ব্যাপারি রাজু

স্টাফ রিপোর্টার, চৌগাছা (যশোর) ॥ যশোরের চৌগাছা উপজেলার সাত ব্যক্তি আদম ব্যাপারির খপ্পরে পড়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে সাত বছর ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। তারা বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন পরিবারের লোকেরা জানেন না। অবশেষে সাত বছর পর রবিবার বিকেলে চৌগাছা বাজার থেকে আদম ব্যাপারী ফজলু রহমান ওরফে রাজুকে ধরেছেন ভুক্তভোগীদের স্বজনরা। তাকে থানা পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, ২০১৩ সালে উপজেলার মুক্তদাহ গ্রামের একই পরিবারের চারজনসহ মোট ৭ জন আদম ব্যাপারি ফজলু ওরফে রাজুর প্রলোভনে পড়ে পানিপথে মালায়েশিয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন। চট্টগ্রামের টেকনাফে পৌঁছে সেখানে ১১ দিন অপেক্ষা করেন সকলে। সেই ১১ দিন তারা বাড়িতে যোগাযোগ করতেন বলে জানান স্বজনরা। এরপর সাত বছর ধরেই তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। তারা সকলে বেঁচে আছেন না মারা গেছেন তা জানেন না স্বজনরা। এমনকি সাত বছর ধরে আদম ব্যাপারী ফজলু রহমানের কোন সন্ধান ছিল না।
রবিবার বিকেলে ভুক্তভোগী পরিবারের স্বজনরা আদম ব্যাপারি ফজলু রহমান ওরফে রাজুকে হাতে নাতে ধরতে সক্ষম হন। চৌগাছা বাজারের মেইন বাসস্ট্যান্ড থেকে তাকে ধরে মুক্তদাহ গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে তাকে থানা পুলিশে সোপর্দ করেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা।
সূত্র জানায়, উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের মুক্তদাহ গ্রামের আপন ভাই ভাতিজাসহ তাদের আরও ৩ নিকট আত্মীয় মিলে ৭ জন ২০১৩ সালে মালায়েশিয়ায় যাওয়ার উদ্যেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। তারা হলেন মুক্তদাহ গ্রামের মৃত ছবেদ আলীর ছেলে শরিফুল ইসলাম খোকন, একই গ্রামের মৃত হায়দার আলীর ছেলে আজিজুর রহমান, আতিয়ার রহমানের ছেলে অমিত হাসান মুকুল, মৃত বদর উদ্দিনের ছেলে ফুলজার আলী, রুস্তমপুর গ্রামের রমজান আলী, দুর্গাবরকাটি গ্রামের লিটন হোসেন ও কোটচাঁদপুর উপজেলার পরানপুর গ্রামের আফতাব খানের ছেলে শফিকুল ইসলাম শফি। এরমধ্যে মুক্তদাহ গ্রামেরই চারজন, বাকিরা তাদের নিকট আত্মীয়। নিখোঁজের স্বজনরা জানান, সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার রতনপুর গ্রামের ইসমাঈল হোসেনের ছেলে ফজলু রহমান ওরফে রাজু (৪৮) চৌগাছার মুক্তদাহ গ্রামের মৃত জামাত আলীর মেয়ে রাশিদা বেগমকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই তিনি ওই বাড়িতে ঘরজামাই থাকেন। এরপর তিনি স্থানীয়দের পানি পথে মালায়েশিয়ায় যাওয়ার উদ্ধুদ্ধ করেন। তার প্রলোভনে পড়ে সাত বছর আগে গ্রামটির সাতজন বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন।
নিখোঁজদের প্রতিবেশী মুন্না হোসেন জানান, ‘দালাল রাজু হোসেন চৌগাছা উপজেলার জলকা মাদবপুর গ্রামে আবারও বিয়ে করে সেখানে থাকেন। এমন খবর পেয়ে আমি অনুসন্ধান শুরু করি এবং সত্যতাও পাই। সেই থেকে আদম ব্যাপারি রাজুকে ধরতে আমি নানা কৌশল অবলম্বন করি। রবিবার বিকাল ৩ টার দিকে খবর পাই তিনি চৌগাছা বাজারের মেইন বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান করছেন। আমি দ্রুত সেখানে পৌঁছে তাকে ধরে ফেলি এবং নিজ বাড়ি মুক্তদাহে নিয়ে আসি। একটি সূত্র জানায়, দালাল ফজলু রহমান ওরফে রাজু দীর্ঘ ৭ বছর ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। নিখোঁজ সাত জনের পরিবারসহ এলাকার পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করে তিনি আবার চৌগাছায় প্রবেশ করেন। বর্তমানে উপজেলার জলকা মাধবপুর গ্রামে আবার বিয়ে করে সেখানেই ঘরজামাই আনে। ইতোমধ্যে তিনি ওই এলাকা থেকে মালায়েশিয়ায় লোক পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও সূত্র নিশ্চিত করেন। তার সাথে চৌগাছার আরও কিছু দালাল জড়িত বলেও জানা গেছে। দালাল রাজুকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে নিখোঁজ ব্যক্তিদের শেষ পরিণতি কি হয়েছিল তা জানা যাবে বলে অনেকে মনে করছেন। এ বিষয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রিফাত খান রাজিব বলেন, নিখোঁজ অমিত হাসান মুকুলের বাবা আতিয়ার রহমান একটি মানব পাচার মামলা করেছেন। পুলিশ আসামিকে হেফাজতে নিয়ে সোমবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

ভাগ