সাতক্ষীরা সংবাদদাতা ॥ সাতক্ষীরার শ্যামনগরে কলেজছাত্রী মরিয়ম খাতুনকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত প্রেমিক সুব্রত মন্ডলকে (২৪) আটক করেছে পুলিশ। রোববার বেলা সাড়ে ১১ টায় সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান তার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। এর আগে শনিবার রাতে ভুরুলিয়া ইউনিয়নের কাচড়াহাটি গ্রামের বাড়ি থেকে সুব্রতকে আটক করা হয় বলে জানান পুলিশ সুপার। আটক সুব্রত মন্ডল ওই গ্রামের পরিমল মন্ডলের ছেলে। নিহত মরিয়ম খাতুন (২০) ভুরুলিয়া ইউনিয়নের বল্লভপুর গ্রামের আব্দুল কাদেরের মেয়ে ও শ্যামনগর মহসিন ডিগ্রি কলেজের ছাত্রী।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, গত শুক্রবার সকালে ভুরুলিয়া ইউনিয়নের বল্লভপুর গ্রামের একটি বিলের মধ্যে থেকে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় পুলিশ কলেজছাত্রী মরিয়ম খাতুনের লাশ উদ্ধার করে। এর তিনদিন আগে কাউকে কিছু না বলে এশার নামাজের পর মরিয়ম বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। এরপর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। এ ঘটনায় শ্যামনগর থানায় তার বাবা একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। শুক্রবার সকালে স্থানীয়দের দেয়া খবরের ভিত্তিতে তার লাশটি উদ্ধার করে। তিনি জানান, মরিয়মের সাথে সুব্রতের গত দু বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। মাঝে মাঝে তাদের সাথে দেখা সাাতসহ শারীরিক সম্পর্কও হতো। গত দু মাস ধরে মরিয়ম তাকে বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। বিয়ে না করলে সে সুব্রতের বাড়িতে ওঠবে বলেও জানায়। ফলে সুব্রত আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে মরিয়মকে হত্যার পরিকল্পনা করে। এরই জের ধরে গত ৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় সে মোবাইল ফোনে মরিয়মকে ডেকে গ্রামের বিলের মধ্যে নিয়ে যায়। সেখানে সুব্রত তাকে ধর্ষণের পর গলায় ওড়না পেচিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মোহাম্মদ আলী শ্যামনগর থানায় একটি মামলা করেন। সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিরুল ইসলাম ও শ্যামনগর থানা পুলিশের ওসি নাজমুল হুদা উপস্থিত ছিলেন।





